খামেনিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত বড় ভুল করেছে: বিশ্লেষক
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে বড় ভুল করেছে বলে মনে করেন ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক আটলান্টিক কাউন্সিলের উপদেষ্টা এবং কিলওয়েন গ্রুপের কৌশলগত উপদেষ্টা চেয়ারম্যান হারলান উলম্যান। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, খামেনি এখন অনেকের চোখে শহীদ। ফলে তাকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি সহজ হবে, এমনটা ভাবার সুযোগ নেই; বরং এতে ইরানের ভেতরে প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হতে পারে।
লারিজানি: এক নতুন ও ভয়ংকর চ্যালেঞ্জ
তিনি আলি লারিজানির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যদি লারিজানি জীবিত থাকেন, তবে তিনি অত্যন্ত দক্ষ এবং কঠোর অবস্থান নিতে সক্ষম একজন ব্যক্তি। সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘ভংকর শত্রু’ হয়ে উঠতে পারেন। উলম্যানের আশঙ্কা, খামেনিকে সরিয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো লারিজানিকে আরও শক্তিশালী করে দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
উলম্যান মনে করেন, খামেনিকে সরিয়ে দেওয়ার পর ওয়াশিংটনের উচিত হবে না দ্রুত কোনো আলোচনার আশা করা। তিনি ভেনেজুয়েলার উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে যেমন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, ইরানের ক্ষেত্রেও তেমনটি হতে পারে। তার কথায়, ‘আমি মনে করি না এখন সহজে কোনো সমঝোতা সম্ভব।’
কৌশলগত সীমাবদ্ধতা
শীর্ষ নেতৃত্ব নির্মূল করার কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলে উলম্যান বলেন, এই ধরনের কৌশল তখনই কার্যকর হয় যখন প্রতিপক্ষের সব শীর্ষ নেতাকে একসঙ্গে কবজা করা যায়। কিন্তু তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র সব নেতাকে ধরতে পারেনি। ফলে টিকে থাকা নেতৃত্ব প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠতে পারে এবং সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।