সর্বশেষ
Loading breaking news...

মার্কিন চাপ কি হিতে বিপরীত হচ্ছে? ইরানের ওপর চাপ বাড়লে তেহরান আরও শক্তিশালী হতে পারে, মত বিশেষজ্ঞের

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মাধ্যমে ইরানকে পুনরায় পারমাণবিক আলোচনায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এই কৌশল ইরান সরকারকে দুর্বল করার বদলে আরও সংহত করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ইভান সাশা শিহান। তিনি মনে করেন, অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগের ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কট্টরপন্থীদের অবস্থান আরও শক্ত হতে পারে, যা পশ্চিমাদের মূল লক্ষ্যের পরিপন্থী।

ঐতিহাসিক স্থিতিস্থাপকতা

শিহান উল্লেখ করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ সৃষ্টির লক্ষ্য ছিল তেহরানকে নতিস্বীকারে বাধ্য করা। কিন্তু ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দীর্ঘস্থায়ী বহিরাগত চাপ সহ্য করার এক অনন্য ক্ষমতা ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার রয়েছে। ফলে এই চাপ সরকারকে দুর্বল করার পরিবর্তে তার অবস্থান আরও মজবুত করতে পারে এবং জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগিয়ে তুলতে পারে, যা সরকারের জন্য সহায়ক হবে।

বিক্ষোভ ও অর্থনৈতিক সংকট

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানের মুদ্রার আকস্মিক পতনের পর দেশজুড়ে তীব্র গণবিক্ষোভ শুরু হয়। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, এই বিক্ষোভে ছয় হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যদিও ইরান সরকার প্রায় তিন হাজার মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করেছে এবং সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

শাসন পরিবর্তনের বাস্তবতা

তবে শিহান স্পষ্ট করেছেন যে, শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সংকট অথবা গণবিক্ষোভ কখনোই সরাসরি শাসন পরিবর্তন ঘটাতে পারে না, যদি না দেশটির অভ্যন্তরে সুসংগঠিত কোনো বিকল্প নেতৃত্বের উত্থান ঘটে। তিনি আরও সতর্ক করেন যে, কোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ জাতীয়তাবাদী আবেগ উস্কে দিতে পারে। এর ফলে বিদ্যমান সরকার বিরোধীদের দমন করার আরও সহজ সুযোগ পেয়ে যেতে পারে এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে পারে।

কূটনীতিই কি সমাধান?

বিশেষজ্ঞের মতে, সামরিক পথের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক চাপ, আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ এবং ইরানের অভিজাত বাহিনী আইআরজিসি-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার মতো পন্থাগুলো অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে। শিহান উপসংহারে বলেন, ইরানের ভবিষ্যৎ মূলত দেশটির অভ্যন্তরীণ গতিপ্রকৃতির ওপরই নির্ভরশীল। বাইরের চাপ হয়তো পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে কিছুটা ত্বরান্বিত করতে পারে, কিন্তু তা চূড়ান্ত পরিবর্তনের একমাত্র কারণ হতে পারে না।

আরও পড়ুন