সর্বশেষ
Loading breaking news...

ভেনেজুয়েলার ওপর চাপ বাড়াতে সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নাটকীয় অভিযানে বিশাল তেলের ট্যাঙ্কার জব্দ

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার
ভেনেজুয়েলার ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছে। উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ক্যারিবিয়ান সাগরের বুকে নাটকীয় এক অভিযান চালাল মার্কিন সামরিক বাহিনী। রাশিয়ার পতাকাবাহী জাহাজের পর এবার তাদের জালে আটকা পড়ল ‘ওলিনা’ নামের আরও একটি বিশাল তেলবাহী ট্যাঙ্কার। ভেনেজুয়েলার সঙ্গে চলমান উত্তেজনার পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এটি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক হওয়া পঞ্চম তেলের ট্যাঙ্কার হিসেবে তালিকাভুক্ত হলো।

সমুদ্রবক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানশুক্রবার মার্কিন সেনাবাহিনীর সাউদার্ন কমান্ড একটি বিশেষ বিবৃতিতে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, ‘ওলিনা’ নামক ওই ট্যাঙ্কারটিকে আটক করার সময় কোনো ধরণের অঘটন বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি এবং নাবিকরা নিরাপদে রয়েছেন। তবে ঠিক কী কারণে জাহাজটিকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, সে বিষয়ে সেনাবাহিনী সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য, যেখানে বলা হয়েছে রুশ তেল পরিবহণের দায়ে ওয়াশিংটন আগেই এই ট্যাঙ্কারটির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।

পরাশক্তিদের স্নায়ুযুদ্ধের মোড়ভেনেজুয়েলার মাদুরো সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবেই এই ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে বাইডেন প্রশাসন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাগরের বুকে এই ধরণের অভিযান পরাশক্তিদের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র এখন সমুদ্রপথেও তাদের নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। জব্দকৃত জাহাজটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহণ করছিল বলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল।

ধারাবাহিক অভিযানের পরিসংখ্যানএর ঠিক আগেই গত বুধবার মার্কিন বাহিনী পরপর দুটি তেলের জাহাজ আটক করেছিল, যার মধ্যে একটি ছিল রুশ পতাকাবাহী ‘মেরিনেরা’, যাকে ‘বেলা-১’ নামেও ডাকা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই সপ্তাহের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর মার্কিন কোস্টগার্ড সেই অভিযান সফল করতে সক্ষম হয়েছিল। সাগরে মার্কিন বাহিনীর এই ধারাবাহিক তৎপরতা প্রমাণ করে যে, তারা কোনোভাবেই প্রতিপক্ষকে ছাড় দিতে নারাজ। একের পর এক জাহাজ আটকের ঘটনায় ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি খাত বড় ধরণের হুমকির মুখে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন উদ্বেগসাগরে মার্কিন বাহিনীর এই ধারাবাহিক এবং কঠোর তৎপরতা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। জ্বালানি নিরাপত্তা ও সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতি নির্ধারণী মহল। বিশেষ করে তেলবাহী জাহাজের ওপর এমন সামরিক পদক্ষেপ বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে এই উত্তেজনার রেশ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আরও পড়ুন