ইরান উত্তেজনায় কাতার থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার: কংগ্রেসে সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কাতার থেকে কয়েকশ মার্কিন সেনাকে সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ। পেন্টাগনের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে এই সেনাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে ইরাক, সিরিয়া, কুয়েত, সৌদি আরব, জর্ডান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘাঁটিগুলোতে মার্কিন সেনারা এখনও মোতায়েন রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই কাতার থেকে এই সেনা স্থানান্তর করা হয়েছে।
সামরিক উত্তেজনা: তেহরানের পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি
ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় তেহরান কঠোর পাল্টা আক্রমণের হুমকি দিয়েছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে কোনো সামরিক আঘাত এলে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন সকল মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের মিশন প্রধান এক চিঠিতে সতর্ক করেছেন যে, ইরানের ওপর আক্রমণ হলে অঞ্চলের সকল শত্রু ঘাঁটি 'বৈধ লক্ষ্যবস্তু' হিসেবে গণ্য হবে। তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ ও সরাসরি দায় নিতে হবে।
মার্কিন কংগ্রেসে অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা: ক্ষমতার লড়াইয়ের আভাস
সামরিক প্রস্তুতির মধ্যেই ওয়াশিংটনে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের ঘোর বিরোধিতা শুরু হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের প্রভাবশালী সদস্য জশ গটহাইমার এবং মাইক ললর এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সক্ষমতাকে দুর্বল করতে পারে। পাশাপাশি কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি এবং রো খান্না একটি 'ওয়ার পাওয়ার্স রেজ্যুলেশন' উত্থাপন করেছেন, যেখানে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করা হয়েছে। উল্লেখ্য, কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ সামরিক কেন্দ্র, যেখানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। এই বিষয়ে মার্কিন সেন্টরাল কমান্ড (সেন্টকম) তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।