কর্মীর প্রাণ বাঁচাতে সব ফ্লাইটের টিকিট বুক! মেক্সিকোর রণক্ষেত্রে মার্কিন কোম্পানির নজিরবিহীন উদ্ধার অভিযান
মেক্সিকোতে ভয়াবহ সহিংসতা ও অস্থিরতার মধ্যে আটকে পড়া এক কর্মীকে উদ্ধারে নজিরবিহীন মানবিকতা দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। মাদক সম্রাট ‘এল মেনচো’র মৃত্যুর পর উত্তাল মেক্সিকো থেকে নিজেদের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে কোম্পানিটি সম্ভাব্য সকল বিমানের টিকিট বুক করে নেয়। প্রতিষ্ঠানের এই সাহসী ও ত্বরিত পদক্ষেপ এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রণক্ষেত্রের মাঝে শৌচাগারে কাটানো সেই আতঙ্কের প্রহর
সান ফ্রান্সিসকো ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ভারসেল’-এর প্রকৌশলী অ্যান্ড্রু বারবা তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা বিমানবন্দরে আটকা পড়েছিলেন। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া হানাহানি ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি চরম উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। প্রাণের ভয়ে এই দম্পতি এক পর্যায়ে বিমানবন্দরের শৌচাগারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। চারদিকে যখন অনিশ্চয়তা, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে এগিয়ে আসে তাঁর কর্মস্থল।
ভারসেলের শীর্ষ নেতৃত্ব অ্যান্ড্রু বারবাকে নিরাপদে সরিয়ে আনতে এক মুহূর্তও নষ্ট করেনি। তাঁরা গুয়াদালাহারা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হওয়া প্রতিটি সম্ভাব্য ফ্লাইটের টিকিট অগ্রিম বুক করে ফেলেন। উদ্দেশ্য ছিল, যেকোনো একটি বিমান উড্ডয়নের অনুমতি পেলেই যেন ওই দম্পতি তাতে চড়ে দেশ ছাড়তে পারেন। এই সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান শেষ পর্যন্ত সফল হয় এবং তাঁরা নিরাপদে টেক্সাসের ডালাসে পৌঁছান।
নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর পর অ্যান্ড্রু বারবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর প্রতিষ্ঠানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সংকটের সময়ে কোম্পানি শুধুমাত্র একটি পরিকল্পনায় স্থির ছিল না, বরং তাদের হাতে একাধিক বিকল্প পথ তৈরি ছিল। করপোরেট দুনিয়ায় একজন কর্মীর জীবনের মূল্য কতখানি হতে পারে, এই ঘটনাটি তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলো।
বর্তমানে মেক্সিকোর পরিস্থিতি চরম অস্থিতিশীল হলেও ভারসেলের এই উদ্যোগ অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের জন্যও একটি অনুকরণীয় পাঠ। মানবিক মূল্যবোধ এবং কর্মীর প্রতি দায়বদ্ধতা যে একটি প্রতিষ্ঠানের শ্রেষ্ঠ সম্পদ, তা এই উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমেই প্রমাণিত হলো। বিশ্বব্যাপী এই ঘটনাটি ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে এবং করপোরেট নেতৃত্বের নতুন মানদণ্ড তৈরি করছে।