বিদেশি সেনাদের উপস্থিতির বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী
ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ দেশের মাটিতে যেকোনো বিদেশি সামরিক বাহিনীর উপস্থিতির বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য করলেন তিনি। তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেন, কোনো বিদেশি শক্তি ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করলে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অনড় অবস্থান
পাদ্রিনো লোপেজ বলেন, "আমাদের সংবিধান আমাদেরকে দেশের স্বাধীনতা ও অখণ্ডতা রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব দিয়েছে। আমরা কোনো সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করব না।" তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিদেশি রাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সম্পদ লুটের লক্ষে ষড়যন্ত্র করছে এবং সীমান্তে উসকানি দিচ্ছে। ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী যেকোনো আগ্রাসন রুখে দিতে সম্পূর্ণ সক্ষম বলে তিনি দাবি করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কড়া বার্তা
যদিও তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করেননি, তবুও তার ইঙ্গিত ছিল ওয়াশিংটনের দিকে। সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক মহড়া দুই দেশের উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকলেও, সামরিক হুমকির মুখে তারা চুপ করে বসে থাকবেন না। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই আগ্রাসী আচরণের নিন্দা জানানোর আহ্বান জানান।
সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি ও মহড়া
ভাষণের পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনী তাদের শক্তির প্রদর্শনী হিসেবে একটি মহড়ার আয়োজন করেছে। এতে ট্যাংক, যুদ্ধবিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রদর্শন করা হয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেনাদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটি রক্ষায় জওয়ানরা জীবন দিতে প্রস্তুত।
মাদুরোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন
এই ভাষণে প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর প্রতি সেনাবাহিনীর পূর্ণ আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে যেকোনো ক্যু বা ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে। বিরোধীদেরও তিনি বিদেশি শক্তির দালালি না করে দেশের স্বার্থে কাজ করার পরামর্শ দেন। এই বক্তব্য মাদুরো সরকারের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।