সীতাকুণ্ডে স্টিল মিলে সশস্ত্র ডাকাতির চেষ্টা রুখে দিল গ্রামবাসী
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের শিল্পাঞ্চলে গভীর রাতে এক ভীতিপ্রদ হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে সীতাকুণ্ডে অবস্থিত আবুল খায়ের গ্রুপের প্রতিষ্ঠান একেএস স্টিল কারখানায় ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল অতর্কিত হামলা চালায়। মূলত স্ক্র্যাপ লোহা ও মূল্যবান রড লুটপাটের উদ্দেশ্যেই এই সংঘবদ্ধ চক্রটি শিল্প প্রতিষ্ঠানটিতে হানা দেয় বলে জানা গেছে।
গ্রামবাসীর বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ ও দুর্ধর্ষ পশ্চাৎপসরণ
হামলাকারীরা কারখানার মূল ফটক ও অফিস কক্ষ ভাঙচুর করে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এসময় বাধা দিতে গেলে কর্তব্যরত নৈশপ্রহরী ক্ষতেন ত্রিপুরা এবং অফিস স্টাফ আবদুল মোতালেবসহ কয়েকজন শ্রমিককে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ডাকাত দলটির হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল এবং তারা আতঙ্ক সৃষ্টি করতে এলোপাতাড়ি গুলিও ছোড়ে। আকস্মিক এই হামলায় পুরো কারখানাজুড়ে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বিপদ আঁচ করতে পেরে কারখানার নৈশপ্রহরী সাহসিকতার সাথে মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহায্যের জন্য আহ্বান জানান। মাইকিং শুনে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী এগিয়ে এলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। সাধারণ মানুষের জোরালো প্রতিরোধের মুখে ডাকাতরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। পিছু হটার সময় হামলাকারীরা কারখানা লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করতে থাকে। আবুল খায়ের গ্রুপের ডিজিএম ইমরুল কাদের ভূঁইয়া জানান, এলাকাবাসীর সময়োপযোগী সহযোগিতার ফলেই বড় ধরনের লুটপাট রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহিনুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা পাথর নিক্ষেপ করতে করতে পালিয়ে যায়। তবে ঠিক কী কারণে এই হামলা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি; অভিযোগ পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে।
শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীদের শনাক্ত করতে তারা তৎপর রয়েছে এবং রাতে টহল জোরদার করা হবে। স্থানীয়দের সাহসিকতার প্রশংসা করে কারখানা কর্তৃপক্ষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।