রূপগঞ্জে বকেয়া বেতনের দাবিতে রণক্ষেত্র: মহাসড়ক অবরোধ, আহত ২০
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বকেয়া বেতন-ভাতা আদায় ও শ্রমিক নির্যাতনের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা বিক্ষোভ শেষ পর্যন্ত এক রক্তক্ষয়ী রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। উপজেলার মইকুলি এলাকায় অবস্থিত রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা ‘বি ব্রাদার্স কোম্পানি লিমিটেড’-এর শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এই অস্থিরতা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হয়ে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
মহাসড়কে ৫ ঘণ্টার বিভীষিকা ও জনভোগান্তি
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা তাদের দাবির সপক্ষে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার এই অবরোধের ফলে সড়কের উভয় পাশে প্রায় ১৮ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক এবং জরুরি সেবার অ্যাম্বুলেন্সসহ শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থেকে হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হন। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ আরও ছড়িয়ে পড়ে।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত বছরের ডিসেম্বর মাসসহ চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—এই তিন মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া রেখেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। পাওনা টাকা না পেয়ে তারা চরম আর্থিক সংকটে দিনাতিপাত করছেন। শ্রমিকদের দাবি, বকেয়া বেতন চাইলে উল্টো তাদের ছাঁটাই ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। সম্প্রতি কারখানার ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং সেকশনের এক শ্রমিককে মারধরের ঘটনা এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে।
সংঘর্ষ চলাকালে উত্তেজিত শ্রমিকরা সড়কে আটকে থাকা বেশ কিছু যানবাহন এবং কারখানার সামনের অংশে ভাঙচুর চালায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক দফা টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এই ঘটনায় শ্রমিক, পুলিশ এবং সংবাদকর্মীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।