পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলে গেলে নিচের ভূমির ভয়াবহ পরিবর্তন হতে পারে
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার বিশাল বরফের স্তর গলে গেলে শুধু সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাই বাড়বে না, বরং এর নিচের ভূমির কাঠামোতেও আমূল পরিবর্তন আসবে। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণাপত্রে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। লাইভ সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, বরফের ওজনের চাপে বর্তমানে দাবিয়ে থাকা মাটি বরফ সরে গেলে ওপরের দিকে উঠে আসতে পারে, যা ভূতাত্ত্বিক বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।
গবেষণায় উঠে আসা তথ্য
গবেষকরা স্যাটেলাইট ডেটা এবং ভূতাত্ত্বিক মডেল ব্যবহার করে দেখিয়েছেন যে, পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার বরফের স্তর দ্রুত পাতলা হচ্ছে। এই বরফ গলে গেলে এর নিচের শিলাস্তর বা 'বেডরক' দ্রুতগতিতে ওপরের দিকে উঠে আসবে। এই প্রক্রিয়াকে 'গ্লেসিয়াল আইসোস্ট্যাটিক অ্যাডজাস্টিং' বলা হয়। এর ফলে পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি এবং মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রেও সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির শঙ্কা
পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলে গেলে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ৩ থেকে ৪ মিটার বেড়ে যেতে পারে। এতে বাংলাদেশের মতো নিচু বদ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, মাটি ওপরে উঠে আসার ফলে বরফ গলার হার আরও ত্বরান্বিত হতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। এটি একটি বিপজ্জনক চক্র তৈরি করতে পারে।
ভূমির ভৌগোলিক রূপান্তর
বরফ সরে গেলে অ্যান্টার্কটিকার মানচিত্র বদলে যেতে পারে। নতুন নতুন দ্বীপ এবং প্রণালী তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গবেষকরা বলছেন, এই পরিবর্তন এতটাই ব্যাপক হতে পারে যে ভবিষ্যতের মানচিত্রে অ্যান্টার্কটিকাকে চেনা কঠিন হবে। এটি সেখানকার জীববৈচিত্র্য এবং বাস্তুতন্ত্রের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। পেঙ্গুইন এবং সিলের আবাসস্থল ধ্বংস হতে পারে।
বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা
গবেষণার প্রধান লেখক বলেন, "আমাদের হাতে সময় খুব কম। কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধ করতে না পারলে এই বিপর্যয় এড়ানো অসম্ভব।" তিনি বিশ্বনেতাদের অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এই গবেষণাটি আমাদের গ্রহের ভবিষ্যতের জন্য একটি অশনিসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।