সর্বশেষ
Loading breaking news...

প্রতারণা ও অপমানে তরুণীর কাফন কিনে পার্কে আত্মহত্যার করুণ চেষ্টা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

বরিশাল নগরীর মুক্তিযোদ্ধা পার্কে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হলো নগরবাসী। স্বামীর প্রতারণা ও শ্বশুরবাড়ির সীমাহীন অপমান সইতে না পেরে নিজের কাফনের কাপড় কিনে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক তরুণী। সোমবার দুপুরে কীর্তনখোলা নদীর তীরে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

প্রেম থেকে গোপন তালাক

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই তরুণী তার যন্ত্রণাময় জীবনের কথা তুলে ধরেন। বরিশাল সদর উপজেলার সিদ্দিকুর রহমান সাগরের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরিবারের অমতে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন, যা মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় সাগরের পরিবার এ বিয়ে কখনোই মেনে নেয়নি। এই পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই বিয়ের মাত্র চার মাসের মাথায় সাগর গোপনে তাকে তালাক দিয়ে দেয়, যা ছিল তার জন্য এক চরম বিশ্বাসঘাতকতা।

জোরপূর্বক গর্ভপাত ও আইনি লড়াই

ভুক্তভোগীর স্বজনদের অভিযোগে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তারা জানান, বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কের কারণে তরুণী গর্ভবতী হয়ে পড়েন। সাগর তাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করলে তিনি সাগরের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন এবং স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। অভিযোগ আরও গুরুতর হয় যখন জানা যায়, বিয়ের পর তার শ্বশুর তাকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক গর্ভপাত করান। এই মর্মান্তিক ঘটনার কিছুদিন পরই গোপনে তালাকের ঘটনা ঘটে, যার প্রতিকার চেয়ে তিনি অবৈধ বিচ্ছেদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন।

আদালতের বাইরে অপমান, মৃত্যুর প্রস্তুতি

সোমবার ছিল সেই মামলার শুনানির দিন, যা তার জীবনের শেষ অবলম্বন ছিল। আদালত থেকে বের হওয়ার পর তার শ্বশুর, দেবরসহ অন্যরা তাকে অশালীন মন্তব্য করে জনসমক্ষে চরমভাবে অপমান করে। "এই অপমানের বোঝা সইতে না পেরেই তিনি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন।" আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বেরিয়ে তিনি সরাসরি বাজারে যান, নিজের জন্য কাফনের কাপড়সহ দাফনের সরঞ্জাম কেনেন এবং পার্কে গিয়ে জীবনের শেষ পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নেন।

পুলিশের উদ্ধার ও আশঙ্কাজনক অবস্থা

প্রত্যক্ষদর্শী এক পুলিশ সদস্য জানান, পার্কে এক তরুণীকে যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখে তিনি এগিয়ে যান। তার পাশে একটি বিষের বোতল এবং একটি ব্যাগে কাফনের কাপড় দেখতে পেয়ে তিনি দ্রুত ৯৯৯-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, ওই তরুণী কীটনাশক পান করেছেন; তার পাকস্থলী পরিষ্কার করা হলেও শারীরিক অবস্থা এখনো আশঙ্কামুক্ত নয় এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন