বকেয়া বেতনের দাবিতে রূপগঞ্জে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে একটি কারখানার শ্রমিকরা। শনিবার মুইকুলী এলাকায় এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়, যার ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার যাত্রী ও দূরপাল্লার যানবাহনের চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম ভোগান্তির শিকার হন এবং সাধারণ জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে।
বিক্ষোভের নেপথ্যের কারণ
শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় একটি কারখানার শ্রমিকদের গত মাসের বেতন বকেয়া ছিল। মালিকপক্ষ গত বৃহস্পতিবার বেতন দেওয়ার কথা দিলেও তারা তা পরিশোধে ব্যর্থ হয়। বারবার প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ হওয়ায় দুই শতাধিক শ্রমিক ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মবিরতি পালন শুরু করে এবং একপর্যায়ে রাজপথে নেমে এসে মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা জানান, বেতন না পাওয়ায় তারা বাসার ভাড়া দিতে পারছেন না এবং পরিবারের খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকের পক্ষেই দিন এনে দিন খাওয়া এই পরিস্থিতিতে বেতন বকেয়া থাকা মানেই চরম দুর্গতি। তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
সংকট নিরসনে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা
অবরোধের পরিপ্রেক্ষিতে কারখানার মালিকপক্ষ জানিয়েছে, ব্যাংক বন্ধ থাকার কারণে তারা সময়মতো বেতন পরিশোধ করতে পারেনি। তবে তারা আগামী সোমবারের মধ্যে সকল বকেয়া পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পুলিশের মধ্যস্থতায় শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে এই আলোচনার সূত্রপাত হয় এবং পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করার চেষ্টা করা হয়।
বর্তমানে শ্রমিক প্রতিনিধি, মালিকপক্ষ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক চলছে। এই আলোচনার মাধ্যমেই শ্রমিকদের দাবি পূরণ এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার একটি স্থায়ী সমাধান খোঁজা হচ্ছে। যদিও কিছু যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল শুরু করেছে, তবে শ্রমিকরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রশাসন দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে যাতে জনদুর্ভোগের অবসান ঘটে।