ঝিনাইদহে বিশ্ব মেছো বিড়াল দিবস পালিত: প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতার ডাক
দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় পালিত হলো বিশ্ব মেছো বিড়াল দিবস। ‘জনগণ যদি হয় সচেতন, মেছো বিড়াল হবে সংরক্ষণ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনটি উদযাপিত হয়। যশোর সামাজিক বন বিভাগের অধীনে কোটচাঁদপুর সামাজিক বনবিভাগের উদ্যোগে এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল মেছো বিড়ালের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করা এবং এর সুরক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
দিবসটি উপলক্ষে মোবারক আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এক প্রাণবন্ত র্যালির মাধ্যমে, যেখানে স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগের কর্মকর্তা এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এই উদ্বোধনী শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন যশোর সামাজিক বন অঞ্চলের বন সংরক্ষক মোহাম্মদ হারুন ওর রশিদ খান, যা দিবসটির গুরুত্বকে নতুন মাত্রা প্রদান করে।
সংরক্ষণে সম্মিলিত অঙ্গীকার
র্যালি পরবর্তী মূল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কোটচাঁদপুর এসএফএনটিসি ডেপুটি রেঞ্জার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলার সহকারী ভূমি কমিশনার এবং কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত)। তাদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষার বিষয়টি এখন সমাজের সর্বস্তরে গুরুত্ব পাচ্ছে। বক্তারা মেছো বিড়াল না মারার এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এর ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ এবং ছাত্রছাত্রীরা উৎসুক অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই প্রচেষ্টাকে সফল করে তোলেন। বন বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে তাদের মতামত তুলে ধরেন। তারা বলেন, স্থানীয় মানুষের সচেতনতাই পারে এই বিপন্ন প্রাণীটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে।
প্রকৃতি প্রেমের জাগরণ
এই আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে মেছো বিড়াল সংরক্ষণের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বন বিভাগ আশা করছে, ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষের এই অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে বন্যপ্রাণী হত্যা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। প্রকৃতির এই অপরিহার্য প্রাণীটিকে বাঁচাতে এমন গণজাগরণমূলক কর্মসূচি নিয়মিত পালনের আহ্বান জানানো হয় অনুষ্ঠান থেকে।