সর্বশেষ
Loading breaking news...

পাহাড়ে হলদে সোনার ঝিলিক: মাটিরাঙ্গায় ভুট্টা চাষে ভাগ্যবদল হাজারো কৃষকের

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

বিএম-৫১৮ হাইব্রিড: প্রতিকূলতায় অদম্য এক জাত

মাটিরাঙ্গা কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে এবার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আবাদ করা হয়েছে উচ্চ ফলনশীল বিএম-৫১৮ (হাইব্রিড) জাতের ভুট্টা। এই জাতের বিশেষত্ব হলো এর মজবুত গঠন। গাছগুলো ১০৫ থেকে ১১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হলেও প্রবল বাতাস বা ঝড়-বৃষ্টিতে সহজে হেলে পড়ে না, যা পাহাড়ি আবহাওয়ার জন্য অত্যন্ত উপযোগী। হেক্টরপ্রতি ১৩ থেকে ১৪ মেট্রিক টন ফলন দেওয়ার সক্ষমতা সম্পন্ন এই ভুট্টা মাত্র ১৪০ থেকে ১৪৫ দিনের মধ্যেই ঘরে তোলা সম্ভব। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এই জাতের রোগবালাই যেমন কম, তেমনি এর দানাগুলো পুষ্ট ও আকর্ষণীয় রঙের হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও তুঙ্গে।

স্বল্প বিনিয়োগে বিশাল আয়ের হাতছানি

কৃষক পর্যায়ের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে ভুট্টার অত্যন্ত লাভজনক দিকটি। মাঠ পর্যায়ের কৃষক আব্দুর মালেকের মতে, ৩৩ শতক বা এক কানি জমিতে ভুট্টা আবাদ করতে বীজ, সার ও সেচ মিলিয়ে খরচ হয় প্রায় ১৭ হাজার টাকা। নিবিড় পরিচর্যা ও সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ করলে এই সামান্য বিনিয়োগ থেকেই অন্তত অর্ধলক্ষাধিক টাকা আয় করা সম্ভব। খরচের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি মুনাফা হওয়ার সুযোগ থাকায় পাহাড়ি কৃষকদের মধ্যে ভুট্টা চাষে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে স্থানীয় বাজারে পশুখাদ্য ও শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ভুট্টার দর ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

খাদ্য নিরাপত্তা ও আগামীর উজ্জ্বল সম্ভাবনা

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ মনে করেন, ভুট্টা এখন আর কেবল গবাদিপশুর খাদ্যের তালিকায় সীমাবদ্ধ নেই। এটি মানুষের গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎস এবং বিভিন্ন শিল্পের মূল্যবান কাঁচামাল হিসেবেও সমাদৃত। তবে দেশের প্রধান খাদ্যশস্য ধানের গুরুত্ব বিবেচনা করে কৃষি বিভাগ ধানের জমি নষ্ট না করে বরং পাহাড়ি অনাবাদি জমিতে ভুট্টার আবাদ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও আধুনিক চাষ পদ্ধতি শেখানোর ফলে পাহাড়ি মাটিকে কাজে লাগিয়ে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির জোগান দেওয়ার এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার পাহাড়ি বুক চিড়ে এখন দেখা যাচ্ছে ভুট্টার হলদে ঝিলিক। এক সময় যেসব পাহাড়ি ঢাল অনাবাদি পড়ে থাকত, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সেখানে এখন অর্থকরী ফসলের সমারোহ। ভুট্টা চাষে এই নীরব বিপ্লব কেবল পাহাড়ি জনপদে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিই আনেনি, বরং স্থানীয় কৃষকদের জন্য অভাবনীয় আয়ের এক নতুন পথ খুলে দিয়েছে। কৃষি বিভাগের পরিকল্পিত সহায়তা ও আধুনিক জাতের ব্যবহারের ফলে এই অঞ্চলে কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

এক সময় যেসব পাহাড়ি ঢাল অনাবাদি পড়ে থাকত, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সেখানে এখন অর্থকরী ফসলের সমারোহ। এই নীরব বিপ্লব কেবল পাহাড়ি জনপদে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিই আনেনি, বরং স্থানীয় কৃষকদের জন্য অভাবনীয় আয়ের এক নতুন পথ খুলে দিয়েছে। কৃষি বিভাগের পরিকল্পিত সহায়তা ও আধুনিক জাতের ব্যবহারের ফলে এই অঞ্চলে কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

আরও পড়ুন