হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ মহাসড়কের রতনপুর এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পায়েল গোপ (২৫) নামের এক তরুণের অকাল মৃত্যু হয়েছে। মোটরসাইকেল ও ট্রাক্টরের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। এই দুর্ঘটনায় তার খালাতো ভাই বিশাল গোপ গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন, যা এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। পুরো পরিবার এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় দিশেহারা।
আনন্দভ্রমণের রক্তাক্ত পরিণতি
পারিবারিক ও পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, নিহত পায়েল তার খালাতো ভাই বিশালকে নিয়ে রাতে মোটরসাইকেলে করে শায়েস্তাগঞ্জ এলাকায় ভ্রমণে গিয়েছিলেন। আনন্দময় ভ্রমণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রতনপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাক্টরের সাথে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। ট্রাক্টরের প্রচণ্ড আঘাতে পায়েল গোপ ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। তিনি সদর উপজেলার রিচি ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামের ভানু গোপের সন্তান। এই আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকাবাসীও হতবাক।
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে সহযাত্রী
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত বিশাল গোপকে দ্রুত উদ্ধার করা হয়। তাকে প্রথমে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। বর্তমানে তিনি সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার পরিবার ও স্বজনরা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন। বিশালের শারীরিক অবস্থা এখনো স্থিতিশীল নয় এবং তার চিকিৎসার জন্য সবরকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
পুলিশি তৎপরতা ও ঘাতক যান জব্দ
ঘটনার পরপরই হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তারা নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণের ব্যবস্থা করে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাক্টরটি জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ
এই মর্মান্তিক ঘটনা হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ মহাসড়কে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। স্থানীয়রা দ্রুতগামী ও অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। বিশেষ করে রাতে ভারী যানবাহনের চলাচল ও মোটরসাইকেলের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক আইন প্রয়োগের উপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।