যুদ্ধের অচলাবস্থা ভাঙতে জেলেনস্কির লক্ষ্যমাত্রা: মাসে ৫০ হাজার রুশ সেনাকে নির্মূল
ইউক্রেন যুদ্ধের চলমান অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে এবং মস্কোকে আলোচনার টেবিলে দুর্বল করতে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক নতুন ও অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সামরিক কৌশল ঘোষণা করেছেন। এই কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সংখ্যক রুশ সেনাকে নির্মূল করার কঠোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, যা যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। জেলেনস্কি বিশ্বাস করেন, রাশিয়ার জনবল হ্রাসের এই হার ক্রেমলিনের ওপর অসহনীয় চাপ সৃষ্টি করবে।
অস্তিত্ব রক্ষার কঠিন সমীকরণ
সম্প্রতি সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এক বৈঠকে জেলেনস্কি স্পষ্ট করে দেন যে, ইউক্রেনীয় সামরিক ইউনিটগুলোর প্রধান উদ্দেশ্য হবে প্রতি মাসে কমপক্ষে ৫০ হাজার রুশ সেনাকে রণক্ষেত্র থেকে সরিয়ে দেওয়া। তাঁর মতে, এই হারে ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করতে পারলে তা রাশিয়ার সেনা নিয়োগের মাসিক সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাবে। এর ফলস্বরূপ ক্রেমলিন তাদের আগ্রাসী মনোভাব ত্যাগ করে আলোচনার জন্য পিছু হটতে বাধ্য হবে বলে কিয়েভ মনে করছে।
ড্রোন বিপ্লব ও প্রযুক্তি
জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেছেন যে, গত বছরের শেষ দিক থেকে রুশ বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভিডিও বিশ্লেষণের তথ্যানুযায়ী, কেবল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেই প্রায় ৩৫ হাজার রুশ সেনা নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছেন, যা পূর্ববর্তী মাসগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। তবে চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করতে এই সংখ্যাকে মাসে ৫০ হাজারে উন্নীত করাকে তিনি 'সর্বোত্তম মাত্রা' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এই নতুন আক্রমণাত্মক কৌশলের প্রধান অবলম্বন হিসেবে ড্রোন প্রযুক্তিকে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে।
নতুন নিয়োগ ও কৌশল
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও দ্রুত বাড়াতে এবং উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে তিনি মিখাইলো ফেদোরভকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন, যিনি ড্রোন উদ্ভাবনে বিশেষ পারদর্শী। পাশাপাশি, নির্ভুল লক্ষ্যভেদ নিশ্চিত করতে এবং ড্রোন অপারেটরদের উৎসাহিত করতে সেনাবাহিনীতে বিশেষ 'পয়েন্ট সিস্টেম' এবং আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা সেনাদের মনোবল বাড়াতে সাহায্য করবে।
পশ্চিমা সাহায্যের আহ্বান
এদিকে, আবুধাবিতে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা এখনো কোনো ফলপ্রসূ সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতা সত্ত্বেও দোনেৎস্ক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার অভাব দেখা গেছে। এই পরিস্থিতিতে জেলেনস্কি ইউরোপীয় মিত্রদের উপর অতিমাত্রায় নির্ভর না থেকে রাশিয়ার আগ্রাসন রুখতে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলাই একমাত্র পথ—এই বার্তা দিয়ে তাদের সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কেবল ন্যাটোর ওপর নির্ভর করে বসে থাকার সময় শেষ।