সর্বশেষ
Loading breaking news...

যুক্তরাজ্য বা ফ্রান্স প্রস্তাব দিলে পারমাণবিক অস্ত্র নিতাম: জেলেনস্কি

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একটি চাঞ্চল্যকর সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, পশ্চিমের কোনো মিত্র দেশ যদি কিয়েভকে পারমাণবিক অস্ত্র দেওয়ার প্রস্তাব দেয়, তবে তারা তা প্রত্যাখ্যান করত না। স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, যদি যুক্তরাজ্য বা ফ্রান্স এমন কোনো উদ্যোগ নিত, তবে ইউক্রেন তা সানন্দে গ্রহণ করত। জেলেনস্কির এই মন্তব্য বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

রাশিয়ার অভিযোগ ও জেলেনস্কির অবস্থান

সম্প্রতি রাশিয়ার ফরেন ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (SVR) দাবি করেছে যে, পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে পারমাণবিক বোমা সরবরাহের পরিকল্পনা করছে। মস্কোর মতে, ইউক্রেন এই সক্ষমতা অর্জন করলে রাশিয়ার সাথে শান্তি আলোচনায় সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারবে। এই নির্দিষ্ট অভিযোগের জবাবে জেলেনস্কি বলেন, যদিও তিনি পারমাণবিক অস্ত্রের গুরুত্ব বোঝেন, তবে এখন পর্যন্ত কোনো পশ্চিমা দেশ থেকে এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব তিনি পাননি।

জেলেনস্কি আরও জোর দিয়ে বলেছেন যে, ইউক্রেন নিজে থেকে পারমাণবিক অস্ত্র চেয়ে মিত্রদের কাছে কোনো আবেদন জানায়নি। রাশিয়ার পক্ষ থেকে যে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে, তা মূলত আসন্ন শান্তি আলোচনার আগে কিয়েভের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল। তিনি এই ধরনের রুশ দাবিগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন।

এর আগে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর সাথে এক বৈঠকে জেলেনস্কি রাশিয়ার পারমাণবিক হুমকি নিয়ে কথা বলেছিলেন। তিনি মনে করেন, রাশিয়ার এই অপপ্রচারগুলো আসলে তাদের নিজস্ব আগ্রাসী মনোভাব ঢাকার একটি উপায়। তবে পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তার সরাসরি 'হ্যাঁ' বলা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে, যা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধ এক জটিল সন্ধিক্ষণে রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলো কিয়েভকে অস্ত্র সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বারবার হুমকির বিপরীতে ইউক্রেনের এই পাল্টা মনোভাব বিশ্বশান্তির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে জেলেনস্কি আপাতত কূটনৈতিক সমাধানের পথেই হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত বড় কোনো সামরিক পরিবর্তন ঘটে।

আরও পড়ুন