১৩৩ অধ্যাদেশের ভাগ্য ও নতুন স্পিকার নির্বাচন ঘিরে সরগরম ত্রয়োদশ সংসদ
বহুল প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। শেরে বাংলা নগরের সংসদ ভবন এক নতুন যাত্রার সাক্ষী হতে চলেছে, যেখানে প্রথম দিনেই নির্ধারিত হবে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ। রাষ্ট্রপতির ভাষণের মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হবে সরকারের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা। নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে এই সংসদ।
ক্ষমতার বিন্যাস এবং সাংবিধানিক অগ্নিপরীক্ষা
অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁদের শপথ পড়াবেন। তবে মূল আকর্ষণ থাকছে ১৩৩টি অধ্যাদেশ ঘিরে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এই বিপুল সংখ্যক অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করবেন, যা বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা হয়েছিল।
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে এই অধ্যাদেশগুলো পাস করা বাধ্যতামূলক, অন্যথায় সেগুলোর কার্যকারিতা লোপ পাবে। ফলে, প্রথম দিন থেকেই সংসদ এক বড় সাংবিধানিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে আইনপ্রণেতাদের জন্য।
পর্দার আড়ালে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের গুঞ্জন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, প্রথম অধিবেশনেই বেশ কিছু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত ও অধিবেশনের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, অধিবেশনে অনেক সুপ্রস্তাব আসবে এবং সেগুলোর ওপর প্রাণবন্ত আলোচনা হবে।
অন্যদিকে, বিরোধী দল জামায়াত জোটও অধিবেশনে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তারা বেশ কিছু দাবি-দাওয়া তুলে ধরবে বলে জানিয়েছে। দিনের অন্যান্য কার্যসূচির মধ্যে রয়েছে সভাপতিমণ্ডলীর মনোনয়ন, শোকপ্রস্তাব উত্থাপন এবং সরকারি কর্ম কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সংসদ ভবন এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।