সর্বশেষ
Loading breaking news...

রপ্তানি বাজারে বিপর্যয়: ৩.৭৩ শতাংশ রপ্তানি হ্রাসের মুখে দেশের পোশাক খাত

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের ভাটার টান লেগেছে। ইপিবির তথ্যমতে, এই সময়ে খাতটি সামগ্রিকভাবে ৩.৭৩ শতাংশ রপ্তানি হ্রাসের শিকার হয়েছে। জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই খাত থেকে মোট আয় হয়েছে ২ হাজার ৫৮০ কোটি মার্কিন ডলার। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে পোশাক খাতের এই নিম্নমুখী প্রবণতা সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ইউরোপের বাজারে বড় পতন: নেপথ্যের কারণ

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির প্রধান গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যেখানে রপ্তানি কমেছে ৫.৪৯ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৬৯ কোটি ডলারে। ইউরোপের বৃহৎ খুচরা বাজারগুলোতে বিক্রি কমে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের পক্ষ থেকে নতুন অর্ডার কমানোর প্রবণতাই এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পোশাক রপ্তানির দ্বিতীয় বৃহৎ বাজার যুক্তরাষ্ট্রেও ০.৭৪ শতাংশ পতন লক্ষ্য করা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ সুদের হার এবং মূল্যস্ফীতির কারণে ভোক্তাদের ব্যয় কমে যাওয়ায় পোশাকের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আমাদের দেশের ওভেন ও নিটওয়্যার পণ্যের রপ্তানির ওপর। এই দুটি প্রধান বাজার থেকে কাঙ্ক্ষিত আয় না আসায় সামগ্রিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়েছে।

অপ্রচলিত বাজারে ছন্দপতন ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ

হতাশার তথ্য এসেছে অপ্রচলিত বা নন-ট্র্যাডিশনাল বাজার থেকেও, যেখানে রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে ৬.৩৪ শতাংশ। জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে অর্ডার কমে যাওয়ায় এই নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। পণ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিটওয়্যার পণ্যের রপ্তানি ৪.৫৬ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি ২.৭৯ শতাংশ কমেছে।

তবে আশার খবর হলো, যুক্তরাজ্য ও কানাডার বাজারে সামান্য প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বিজিএমইএ নেতারা মনে করছেন, পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীলতা উন্নয়নে জোর দিতে হবে। টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা পুনরায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন