বাবার মৃত্যু, নিজে কি মারাত্মক আহত? ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে নিয়ে ট্রাম্পের চাঞ্চল্যকর দাবি!
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল জল্পনা-কল্পনা। এই বিতর্কে এবার নতুন মাত্রা যোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক এক হামলায় মোজতবা খামেনি সম্ভবত মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন এবং কোনোক্রমে প্রাণে বেঁচে আছেন।
রহস্যের জালে মোজতবার শারীরিক অবস্থা
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির প্রথম ভাষণ সম্প্রচারের পরপরই এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফক্স নিউজের উপস্থাপক ব্রায়ান কিলমিডকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, হামলায় মোজতবার আহত হওয়ার যে খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে, তা কোনোভাবেই উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। ট্রাম্পের ভাষায়, 'আমার মনে হয় তিনি সম্ভবত আহত। হামলায় তিনি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তবে কোনো না কোনোভাবে হয়তো বেঁচে আছেন।'
ভয়াবহ সেই ২৮ ফেব্রুয়ারির নেপথ্য কাহিনি
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের শেকড় লুকিয়ে আছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির এক রক্তক্ষয়ী হামলায়। ওই দিন এক মর্মান্তিক হামলায় নিহত হন মোজতবার বাবা এবং ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। একই হামলায় খামেনি পরিবারের আরও বেশ কয়েকজন সদস্য প্রাণ হারান। সেই ভয়াবহ ঘটনার পর থেকেই মোজতবা খামেনির প্রকৃত অবস্থা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে তখন থেকেই গুঞ্জন ছিল যে, মোজতবা অক্ষত অবস্থায় বের হতে পারেননি। বরং এই হামলায় তিনি নিজেও যথেষ্ট আঘাত পেয়েছেন এবং তার জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় মাধ্যমগুলো বিষয়টি বেশ কিছুদিন গোপন রাখে।
রাষ্ট্রদূতের স্বীকারোক্তিতে জল্পনার অবসান
চলতি সপ্তাহের শুরুতেই সাইপ্রাসে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত ব্রিটিশ পত্রিকা 'দ্য গার্ডিয়ান'-এর কাছে স্বীকার করেন যে, ২৮ ফেব্রুয়ারির সেই হামলায় মোজতবা খামেনিও আহত হয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন গণমাধ্যমে আগে থেকেই মোজতবা খামেনির আহত হওয়ার যে খবর প্রকাশিত হচ্ছিল, ইরানি রাষ্ট্রদূতের এই স্বীকারোক্তি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে তারই সুস্পষ্ট প্রতিফলন মিলেছে।