চাঁদপুরে জাটকা নিধনে ১৪ জেলের কারাদণ্ড, ২০ হাজার মিটার জাল ধ্বংস
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মেঘনা নদীতে জাটকা নিধনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাতীয় মাছ ইলিশের পোনা ধরার অপরাধে আটক ১৪ জেলেকে ৭ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার বিকেলে এই দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়। ইলিশ সম্পদ রক্ষায় সরকার ঘোষিত অভয়াশ্রম কর্মসূচির আওতায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।
মাঝনদীতে অভিযান, জালে আটকা পড়লো শিকারিরাই
মতলব উত্তর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রহমত উল্লাহর নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানে নদী থেকে একটি বেহুন্দী জাল, একটি চাপ জাল, প্রায় ২০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল, ৪টি মাছ ধরার নৌকা এবং ৪টি অ্যাংকর জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দকৃত জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় এবং নৌকাগুলো নৌ পুলিশের জিম্মায় রাখা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন—নুর মোহাম্মদ, ইকবাল হোসেন, আলাউদ্দিন, কামাল হোসেন, মো. ফিরোজ, খলিল হোসেন, সুমন, নবীর হোসেন, মো. সাগর, মো. জামাল, ইমাম হোসেন, আবুল হোসেন, হানিফা ও আল আমিন। তাদের বাড়ি চাঁদপুর সদর, মতলব উত্তর এবং লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায়। আটককৃতদের তাৎক্ষণিকভাবে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘কোনো ছাড় নয়’: জাটকা রক্ষায় প্রশাসনের হুঁশিয়ারি
ভবিষ্যৎ ইলিশ উৎপাদন নিশ্চিত করতে জাটকা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রহমত উল্লাহ বলেন, “জাটকা রক্ষা করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। তাই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ জাটকা শিকার করলে তার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
অভিযানে উপস্থিত জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, “জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি সফল করতে নদীতে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অভয়াশ্রম এলাকায় কেউ অবৈধ জাল ফেলে মাছ শিকার করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অভিযানে সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস ও মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।