সর্বশেষ
Loading breaking news...

দক্ষিণ সুদানে নারকীয় হামলা: ১৬৯ জন নিহত, গণকবরে লাশের মিছিল

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

অশান্ত দক্ষিণ সুদানে এক রক্তক্ষয়ী ও নারকীয় হত্যাযজ্ঞের খবর পাওয়া গেছে। গত রবিবার ভোরে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় আবিয়েমনম কাউন্টিতে একদল অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র যুবকের নৃশংস হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৬৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে যখন সাধারণ মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, ঠিক তখনই শুরু হয় এই অতর্কিত তাণ্ডব। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে যখন নেমে এলো কালবৈশাখী মৃত্যু

হামলাকারীরা কেবল গুলিবর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা স্থানীয় বাজার ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এই নৃশংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন অসহায় শিশু, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তি থেকে শুরু করে পুলিশের সদস্য এবং স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারাও। কাউন্টি কমিশনার ও নির্বাহী পরিচালকও রেহাই পাননি এই প্রাণঘাতী হামলা থেকে। হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন এবং পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে মৃতদেহগুলোকে সম্মানজনক বিদায় জানানোর বদলে দ্রুত গণকবরে দাফন করতে বাধ্য হয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

রাজনৈতিক অস্থিরতার নেপথ্যে কার এই বিষাক্ত কালো হাত?

স্থানীয় প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রতিবেশী ইউনিটি রাজ্য থেকে এসেছিল এবং তারা বিরোধী রাজনৈতিক দল এসপিএলএ-আইও (SPLA-IO)-এর সাথে যুক্ত। যদিও বিরোধী পক্ষ এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে প্রায় এক হাজার সাধারণ মানুষ বর্তমানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা ঘাঁটির পাশে আশ্রয় নিয়েছেন। সহিংসতার এই চরম পর্যায়ে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা এমএসএফ (MSF) তাদের কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের একটি স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে এবং অন্তত ২৬ জন কর্মী বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছেন।

রক্তস্নাত নবীন রাষ্ট্র ও গৃহযুদ্ধের অশনি সংকেত

২০১১ সালে স্বাধীন হওয়া বিশ্বের অন্যতম নবীন এই দেশটি এখন দারিদ্র্য আর গোষ্ঠীগত বিবাদের চরম সীমায় পৌঁছেছে। জাতিসংঘ সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে যে, ২০১৮ সালের শান্তি চুক্তিটি বর্তমানে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে, যা দেশটিকে আবারও একটি ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। দক্ষিণ সুদানের এই অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ ও চরম নিরাপত্তাহীনতা সাধারণ মানুষের জীবনকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন