সর্বশেষ
Loading breaking news...

যুদ্ধের দামামায় বেসুরো অস্ট্রেলিয়া! ইরানে হামলা নিয়ে পেনি ওং-এর সাফ জবাব

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন আচমকাই ভিন্ন সুর গাইল ক্যানবেরা। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার বিন্দুমাত্র পরিকল্পনা তাদের নেই। সোমবার ‘নাইন নেটওয়ার্ক’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি স্পষ্ট করেন, ‘আমরা এই হামলায় অংশ নিইনি এবং ভবিষ্যতেও এমন কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই।’

কূটনৈতিক রণাঙ্গনে পুরনো ক্ষতের দহন

অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্ত নেহাত আকস্মিক নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ। ইরানের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আগে থেকেই বেশ নড়বড়ে। সিডনি ও মেলবোর্নে ইহুদিবিদ্বেষী অগ্নিসংযোগের ঘটনার নেপথ্যে ইরানের বিপ্লবী গার্ড রয়েছে—এমন গুরুতর অভিযোগের জেরে ২০২৫ সালে ক্যানবেরা থেকে ইরানি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তেহরান অবশ্য বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। অতীতে ইরাক যুদ্ধের সময় মার্কিন নেতৃত্বের ছায়াসঙ্গী হিসেবে অস্ট্রেলিয়াকে দেখা গেলেও, এবারের ইরান সংকটে তারা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখাই শ্রেয় মনে করছে।

রক্তস্নাত শৈশব: মিনাবের বুকে হাহাকার

অস্ট্রেলিয়ার এই সরে দাঁড়ানোর পেছনে কাজ করছে সাম্প্রতিক এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি যৌথ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮০-তে দাঁড়িয়েছে। এই হামলায় নিহতদের প্রত্যেকেই নিষ্পাপ শিশু। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধের ময়দান থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেওয়াই এখন অস্ট্রেলিয়ার চূড়ান্ত অবস্থান বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন