সর্বশেষ
Loading breaking news...

কাঠমান্ডুতে কূটনৈতিক মেলা: রাষ্ট্রদূত শফিকুর রহমানের ইফতারে ঢাকা-নেপাল সখ্যতার বার্তা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান সম্প্রতি কাঠমান্ডুতে এক ব্যতিক্রমী কূটনৈতিক সমাবেশের আয়োজন করেছেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সম্মানে আয়োজিত এই ইফতার ও নৈশভোজ কেবল ধর্মীয় আতিথেয়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং, এটি ছিল ঢাকা ও কাঠমান্ডুর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার এক চমৎকার কৌশলগত মঞ্চ।

গণতন্ত্রের জয়গান ও দ্বিপাক্ষিক বার্তা

অনুষ্ঠানে নেপাল সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ কূটনৈতিক কোরের বহু বিশিষ্ট সদস্য উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূত শফিকুর রহমান তাঁর স্বাগত বক্তব্যে পবিত্র রমজানের শিক্ষা ও তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি সকলকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বিদ্যমান বহুদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে ঢাকা পুরোপুরি বদ্ধপরিকর।

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি। রাষ্ট্রদূত সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনকে দেশটির গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন আয়োজনের জন্য নেপালের জনগণের দৃঢ়তার প্রশংসা করে তিনি স্পষ্ট জানান, বাংলাদেশের নতুন সরকার নেপালের নবনির্বাচিত প্রশাসনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে অত্যন্ত আগ্রহী।

স্বাদ ও রাজনীতির অপূর্ব মিশ্রণ

রাষ্ট্রদূত একইসঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অগ্রগতির চিত্রও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালীকরণের ওপর জোর দিচ্ছে। আইনের শাসন নিশ্চিত করে বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কেও তিনি বিদেশি অতিথিদের বিস্তারিত অবহিত করেন।

প্রায় ১৮টি দেশের মিশন প্রধান, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, জার্মানি, ভারতসহ সার্ক ও জাতিসংঘের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা এই মিলনমেলায় উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা পর্ব শেষে পরিবেশিত হয় এক বর্ণাঢ্য নৈশভোজ, যার বিশেষ আকর্ষণ ছিল ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি সামুদ্রিক খাবার এবং মিষ্টান্ন। এই ব্যতিক্রমী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেপালে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতায় নিঃসন্দেহে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

আরও পড়ুন