সর্বশেষ
Loading breaking news...

সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরে ১২টি জাহাজ, স্বস্তিতে জ্বালানি খাত

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরাইল সংঘাতের আশঙ্কার ঠিক আগমুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সরবরাহ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। উত্তেজনাপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে ১২টি বাণিজ্যিক জাহাজ ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে ভিড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো সম্ভাব্য সামরিক অচলাবস্থা শুরুর আগেই জাহাজগুলো নিরাপদে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

রুদ্ধশ্বাস যাত্রা ও নিরাপদ প্রবেশ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আগেই এই জাহাজগুলো একটি ‘সেফ উইন্ডো’ ব্যবহার করে বন্দরে পৌঁছেছে। শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন জানিয়েছেন, যে সকল জাহাজ সংঘাতের চূড়ান্ত মুহূর্তের আগে যাত্রা শুরু করেছিল, তারাই এখন নিরাপদে রয়েছে।

এই চালানের মধ্যে রয়েছে চারটি এলএনজি বহনকারী জাহাজ এবং দুটি এলপিজি ট্যাংকার। কাতার থেকে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ জাহাজ দুটি ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ইতোমধ্যে নোঙর করেছে। এছাড়াও ক্লিংকারবাহী বেশ কয়েকটি জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে, যা দেশের সিমেন্ট শিল্পের প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

জ্বালানি ছাড়াও নির্মাণ খাতের জন্য অপরিহার্য জিপসাম, চুনাপাথর ও পাথরবাহী একাধিক জাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে পণ্য নিয়ে এসেছে, যার মোট পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার টন। হরমুজ প্রণালী বাংলাদেশের আমদানির জন্য একটি জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত, কারণ এই পথেই মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান দেশগুলো থেকে জ্বালানি আসে।

চলমান ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেবল এই প্রণালী ব্যবহার করেই প্রায় ৬০০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার ও জাহাজ মালিকরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে আন্তর্জাতিক নৌপথের ওপর নজর রাখছেন। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ভবিষ্যতে পণ্য পরিবহনের ব্যয় ও ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন