যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের জয়জয়কার: টেক্সাসে ফের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচিত নিহাল রহিম
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে আরও একবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এক প্রবাসী বাংলাদেশি। টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সাউথ টেক্সাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাউন্টিতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান নিহাল রহিম। গত ১০ মার্চ দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের এই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশিদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নিশ্চিত বিজয়ের শক্তিশালী সমীকরণ
মার্কিন নির্বাচন ব্যবস্থায় এই বিজয়কে কেবল একটি সাধারণ দলীয় মনোনয়ন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট কাউন্টিতে নিবন্ধিত ভোটারের সিংহভাগই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কট্টর সমর্থক। ফলে এখানে ডেমোক্র্যাটদের চূড়ান্ত মনোনয়নের লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার অর্থ হলো, মূল নির্বাচনেও বিজয়ের মুকুট একপ্রকার নিশ্চিত করে ফেলা। নিহাল রহিমের এই অভাবনীয় সাফল্য তাই স্থানীয় রাজনীতিতে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির উত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
২০২১ সাল থেকে সফল নেতৃত্ব
বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চলে বেড়ে ওঠা নিহাল রহিম ২০২১ সাল থেকে সফলতার সঙ্গে ওই কাউন্টির ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য সিনেট এবং কংগ্রেস নির্বাচনে এই কাউন্টির ভোটব্যাঙ্ক অত্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। এমন একটি কৌশলগত জায়গায় একজন বাংলাদেশির বলিষ্ঠ নেতৃত্ব স্থানীয় মার্কিন রাজনীতিতে পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির সম্মান বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
রিয়েল এস্টেট থেকে রাজনীতির শীর্ষ মঞ্চে
রাজনীতির এই জটিল সমীকরণের বাইরে ব্যক্তিগত জীবনে নিহাল রহিম অত্যন্ত সদালাপী এবং অমায়িক একজন মানুষ হিসেবে পরিচিত। পেশাগত জীবনে তিনি সফলভাবে আবাসন বা রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তার এই বহুমুখী প্রতিভা, মানুষের সাথে মেশার অসাধারণ ক্ষমতা এবং নিরলস পরিশ্রমই তাকে মার্কিন মুলুকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে খুশির জোয়ার
নিহাল রহিমের এই বিজয়ে টেক্সাসসহ পুরো আমেরিকার প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। অনেক প্রবাসী মনে করছেন, নিহাল রহিমের মতো নেতৃত্ব মার্কিন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বাংলাদেশিদের স্বার্থ রক্ষায় বড় ভূমিকা পালন করবে। তার এই জয় আগামী দিনে আরও অনেক নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশিকে মার্কিন রাজনীতিতে আগ্রহী করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।