সর্বশেষ
Loading breaking news...

খাদ্যে ভেজাল ও ওজনে কারচুপি রুখতে বরগুনায় বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রচারণা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে একদল অসাধু ব্যবসায়ীর অপতৎপরতা রুখতে এবং জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় বরগুনায় বিশেষ অভিযানে নেমেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। খাদ্যে ভেজাল মেশানো এবং মাপে কম দেওয়ার মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে জেলা শাখার উদ্যোগে এক ব্যতিক্রমী প্রচার অভিযান পরিচালনা করা হয়। সংগঠনটির সদস্যরা ব্যবসায়ীদের সরাসরি কাউন্সিলিং করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

মুনাফার লোভে বিষের কারবার

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যে ভেজাল মেশানো কেবল প্রতারণাই নয়, এটি মানবসভ্যতার ওপর এক নীরব আঘাত। বর্তমানে অধিক মুনাফার আশায় এক শ্রেণির ব্যবসায়ী দুধে পানি, মসলায় ক্ষতিকর রং এবং মাছ-মাংসে বিষাক্ত রাসায়নিক মিশিয়ে বাজারজাত করছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে ক্যানসার, কিডনি বিকল এবং হৃদরোগের মতো প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে। এই ভয়াবহ সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনিক তৎপরতার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।

শুভসংঘের স্বেচ্ছাসেবকরা শহরের প্রধান প্রধান বাজার ও জনাকীর্ণ স্থানে লিফলেট বিতরণ করেন এবং হ্যান্ডমাইকে সতর্কবাণী প্রচার করেন। তারা ক্রেতাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি ভেজাল খাদ্য চেনার উপায়গুলোও তুলে ধরেন।

সততাই ব্যবসার মূলমন্ত্র

প্রচারণায় অংশ নিয়ে বক্তারা ইসলামের মহান আদর্শ ও ব্যবসায়িক নৈতিকতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। পবিত্র কুরআনের সূরা আল-মুতাফফিফীন উদ্ধৃত করে বক্তারা বলেন, যারা মাপে কম দেয় তাদের জন্য পরকালে কঠোর শাস্তি অপেক্ষা করছে। একইভাবে মহানবী (সা.)-এর হাদিস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারা বলেন, যারা প্রতারণা করে তারা কখনোই মুসলিম উম্মাহর প্রকৃত সদস্য হতে পারে না। সততা ও আল্লাহভীতির মাধ্যমেই একটি সুস্থ ও ইনসাফভিত্তিক বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

শুভসংঘের বরগুনা জেলা শাখার পক্ষ থেকে জানানো হয়, খাদ্যে ভেজাল ও ওজনে কারচুপি বন্ধে কেবল আইন যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ। স্কুল, কলেজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই প্রচারণায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বক্তারা আরও বলেন, ক্রেতাদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে; পণ্য কেনার সময় ওজন যাচাই করা এবং সন্দেহজনক পণ্যের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা জরুরি। ব্যক্তিগত সততা ও রাষ্ট্রীয় কঠোর নজরদারির মেলবন্ধনেই কেবল সমাজ থেকে এই নৈতিক অবক্ষয় দূর করা সম্ভব।

আরও পড়ুন