সর্বশেষ
Loading breaking news...

বাকৃবিতে ‘মেহেদী উৎসব’: ঈদের আগেই রঙের ছোঁয়ায় মাতোয়ারা ক্যাম্পাস

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) প্রাঙ্গণে আয়োজিত হলো এক চোখধাঁধানো ‘মেহেদী উৎসব’। ‘মেহেদীর রঙে শুরু হোক ঈদের আনন্দ’—এই কালজয়ী স্লোগানকে বুকে ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা মেতে ওঠেন অনাবিল উচ্ছ্বাসে। মূলত আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ক্যাম্পাসে উৎসবের আবহ ছড়িয়ে দিতেই এই ব্যতিক্রমধর্মী উৎসবের আয়োজন করা হয়।

ঐতিহ্যের নতুন ঠিকানায় শিক্ষার্থীদের ভিড়

বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলিপ্যাড চত্বরে আয়োজিত এই উৎসবে অংশ নেন বাকৃবির ছয়টি ছাত্রী হলের অসংখ্য শিক্ষার্থী। উৎসবের মূল পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কৃষিবিদ মো. আতিকুর রহমান। শিক্ষার্থীদের হাতের তালু নিপুণ নকশায় রাঙিয়ে তোলার পাশাপাশি পুরো ক্যাম্পাসে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কৃষি অনুষদের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তাসমিয়া ফাইরুজ তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ক্যাম্পাসে এমন সৃজনশীল আয়োজন যেন ঈদের আনন্দকে সময়ের আগেই দুয়ারে কড়া নাড়িয়ে দিয়েছে। তার ভাষায়, চারপাশের এই উৎসবমুখর পরিবেশ সত্যিই অভাবনীয়।

উৎসবটি শুধুমাত্র হাতে মেহেদী পরার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এতে ছিল আধুনিকতার ছোঁয়া ও সৃজনশীলতার এক ভিন্ন আমেজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেহেদী ডিজাইন নিয়ে আয়োজিত হয় বিশেষ এক প্রতিযোগিতা। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেহেদী রাঙানো হাতের ছবি নির্দিষ্ট হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। পরবর্তীতে সেই পোস্টগুলোর জনপ্রিয়তা অর্থাৎ লাইক, কমেন্ট ও শেয়ারের সংখ্যার ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়।

হারিয়ে যাওয়া লোকজ সংস্কৃতি ফেরানোর উদ্যোগ

এছাড়া লটারির কুপনের মাধ্যমে নির্বাচিত ১০ জন ভাগ্যবান অংশগ্রহণকারীকে আকর্ষণীয় পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সরাসরি অংশগ্রহণের এই মেলবন্ধন শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

আয়োজনের মূল দর্শন সম্পর্কে কৃষিবিদ মো. আতিকুর রহমান জানান, যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততায় গ্রামবাংলার সেই ঐতিহ্যবাহী মেহেদী পাতার সংস্কৃতি আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে সেই চিরায়ত ঐতিহ্যকে পুনরায় পরিচয় করিয়ে দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। বাকৃবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিকা তাবাসসুম খান এই সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে ঐতিহ্যভিত্তিক ও সৃজনশীল কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

আরও পড়ুন