আতাতালান্তাকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে বায়ার্ন মিউনিখ
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ১৬-র প্রথম লেগে ইতালিয়ান ক্লাব আতালান্তাকে তাদের ঘরের মাঠেই ৬-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে বায়ার্ন মিউনিখ। এই দানবীয় জয়ের ফলে বাভারিয়ানরা কোয়ার্টার ফাইনালের পথে প্রায় নিশ্চিতভাবেই পা দিয়ে রাখল। মঙ্গলবার রাতে আতালান্তার জিউইস স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই জার্মান জায়ান্টদের আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রথমার্ধেই বায়ার্নের দাপট
ম্যাচের শুরু থেকেই বায়ার্ন আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। হ্যারি কেইনের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও বায়ার্নের আক্রমণভাগে কোনো দুর্বলতা দেখা যায়নি। ম্যাচের ১২ মিনিটেই সার্জি গ্যানাব্রির অ্যাসিস্ট থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন জোসিপ স্টানিসিচ। এরপর ২২ মিনিটে মাইকেল ওলিসে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এবং তিন মিনিট পরেই গ্যানাব্রি নিজে গোল করলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সফরকারীরা।
ওলিসের জোড়া গোল ও দ্বিতীয়ার্ধ
বিরতির পর বায়ার্নের আক্রমণের ধার আরও বৃদ্ধি পায়। ৫২ মিনিটে নিকোলাস জ্যাকসন দলের চতুর্থ গোলটি করেন। এরপর ৬৪ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল পূর্ণ করেন ফরাসি উইঙ্গার মাইকেল ওলিসে। ম্যাচের শেষ দিকে তরুণ মিডফিল্ডার জামাল মুসিয়ালা জালের দেখা পেলে বায়ার্নের লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৬-০ তে। প্রতিটি গোলই ছিল দেখার মতো এবং বায়ার্নের দলীয় সংহতির বহিঃপ্রকাশ।
আতালান্তা পুরো ম্যাচে বায়ার্নের গতির সাথে পাল্লা দিতে হিমশিম খেয়েছে। স্বাগতিকদের বল দখলের হার ছিল মাত্র ৩০ শতাংশ। বায়ার্ন পুরো ম্যাচে ২৫টি শট নেয়, যার মধ্যে ১৩টিই ছিল লক্ষ্যভেদী। অন্যদিকে আতালান্তা মাত্র ৮টি শট নিতে সক্ষম হয় এবং এর মধ্যে মাত্র দুটি ছিল লক্ষ্যের দিকে। পুরো মাঠ জুড়েই বায়ার্নের খেলোয়াড়দের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় ছিল।
ম্যাচের ইনজুরি সময়ে মারিও পাসালিচ একটি গোল শোধ করলে ব্যবধান কেবল ৬-১ হয়, যা আতালান্তার জন্য কেবল একটি সান্ত্বনা সূচক গোল ছাড়া আর কিছুই ছিল না। এই পরাজয়ের ফলে দ্বিতীয় লেগে ঘুরে দাঁড়ানো ইতালিয়ান ক্লাবটির জন্য অসম্ভব প্রায় এক মিশনে পরিণত হয়েছে। বায়ার্ন মিউনিখ তাদের অসাধারণ পারফরম্যান্স দিয়ে আবারও প্রমাণ করল কেন তারা ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল।