সর্বশেষ
Loading breaking news...

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও নতুন যুদ্ধের পাঁয়তারার অভিযোগ স্যান্ডার্সের

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতি এবং সামরিক হামলার নির্দেশের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রভাবশালী সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। রবিবার এক বিস্ফোরক মন্তব্যে তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার এবং নতুন করে যুদ্ধ বাধানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনেন। স্যান্ডার্স প্রশ্ন তোলেন প্রশাসনের দেওয়া হামলার যৌক্তিকতা নিয়ে, যা ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। তার মতে, ট্রাম্প প্রশাসন জনগণকে বিভ্রান্ত করে দেশকে আরেকটি অপ্রয়োজনীয় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

স্যান্ডার্স তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে ট্রাম্পের দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেন। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয় এবং সে কারণেই এই হামলা। কিন্তু স্যান্ডার্স মনে করিয়ে দেন যে, প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের সঙ্গে তার আগের দাবির কোনো মিল নেই। তিনি প্রশ্ন রাখেন, প্রশাসনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী এবং কেন বারবার পরস্পরবিরোধী কথা বলা হচ্ছে?

ছয় মাসের ব্যবধানে বিপরীত সুর

সিনেটর স্যান্ডার্স তার বক্তব্যে গত জুনের একটি ঘটনার উল্লেখ করেন। তিনি জানান, মাত্র কয়েক মাস আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দম্ভভরে দাবি করেছিলেন যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। স্যান্ডার্সের প্রশ্ন—যদি স্থাপনাগুলো ধ্বংসই হয়ে থাকে, তবে এখন আবার পারমাণবিক হুমকির দোহাই দিয়ে হামলার নির্দেশ কেন? এই বৈপরীত্য প্রমাণ করে যে প্রশাসন সত্য গোপন করছে এবং যুদ্ধের জন্য অজুহাত খুঁজছে।

স্যান্ডার্স ইতিহাসের উদাহরণ টেনে ভিয়েতনাম ও ইরাক যুদ্ধের ভয়াবহতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে শুরু হওয়া যুদ্ধগুলো আমেরিকার জন্য কেবল বিপর্যয়ই বয়ে এনেছে। এবারও সেই একই পথে হাঁটছে ট্রাম্প প্রশাসন, যা দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়।

তার বক্তব্যের শেষ বাক্যটি ছিল অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ: ‘আরেকটি মিথ্যা, আরেকটি যুদ্ধ।’ এই মন্তব্যের মাধ্যমে স্যান্ডার্স বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধংদেহী মনোভাবকে বিশ্বাস করেন না। তার এই প্রতিবাদ মার্কিন কংগ্রেসে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী মনোভাবকে আরও উসকে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন