সর্বশেষ
Loading breaking news...

আন্তর্জাতিক অস্থিরতা: জ্বালানি পাচার রুখতে টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যা দেশের জাতীয় জ্বালানি মজুদের ওপর সম্ভাব্য বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এই স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে জাতীয় জ্বালানি সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে টেকনাফ সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিশেষ করে অসাধু চক্র যাতে কোনোভাবেই অবৈধভাবে জ্বালানি তেল পাচার করতে না পারে, সেজন্য কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

নেপথ্যের কারণ ও পাচারকারীদের তৎপরতা

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান জানান, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষিতে সরকার দেশের জ্বালানি মজুদ সংরক্ষণ ও সাশ্রয়ী ব্যবহারের নির্দেশ জারি করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন যানবাহনের ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে, যাতে দেশে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি না হয়।

এই নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সীমান্তবর্তী এলাকার চোরাকারবারি ও অসাধু চক্র নদীপথে ও স্থলপথে তেল পাচারের চেষ্টা করতে পারে। এমন আশঙ্কায় সীমান্তে নজরদারি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা রাত-দিন এক করে নাফ নদী ও তৎসংলগ্ন এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছেন।

প্রযুক্তির ব্যবহার ও জিরো টলারেন্স নীতি

জ্বালানি তেল চোরাচালান রোধে বিজিবি বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সীমান্ত চেকপোস্টগুলোতে বিশেষ তল্লাশির পাশাপাশি নৌযান ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর রাখা হচ্ছে নিবিড় নজর। গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ মানুষকে চোরাচালানের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করতে নিয়মিত সভার আয়োজন করছে বিজিবি, যাতে সীমান্ত সুরক্ষায় স্থানীয়রা আরও বেশি সম্পৃক্ত হন।

দেশের সম্পদ রক্ষায় সীমান্তে 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করছে বিজিবি। চোরাচালান ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে ড্রোনের পাশাপাশি থার্মাল ইমেজার, রাডার, বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং ডগ স্কোয়াডের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নজরদারি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন