গুলিবিদ্ধ নাফিজকে বহনকারী সেই বীর রিকশাচালককে সংসদ অধিবেশনে বিশেষ আমন্ত্রণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থী গোলাম নাফিজকে শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে বহনকারী সাহসী রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ এক অনন্য সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন। তাকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগদানের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই আমন্ত্রণকে তিনি তার জীবনের সবথেকে বড় প্রাপ্তি বলে অভিহিত করেছেন।
সাহসিকতার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি
বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে সশরীরে উপস্থিত হয়ে নূর মোহাম্মদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই আমন্ত্রণপত্র সংগ্রহ করেন। এর আগে তাকে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে টেলিফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সংসদের এই অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে উপস্থিত থেকে তিনি ইতিহাসের অংশ হবেন।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ফার্মগেট এলাকায় পুলিশের গুলিতে মারাত্মকভাবে আহত হন বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুলের ছাত্র গোলাম নাফিজ। সেই উত্তাল সময়ে পুলিশ নাফিজের নিথর দেহ নূর মোহাম্মদের রিকশার পাদানিতে তুলে দেয়। নূর মোহাম্মদ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পথেই নাফিজের মৃত্যু হয়।
জাদুঘরে সংরক্ষিত সেই রিকশা
রিকশার পাদানিতে থাকা নাফিজের মরদেহের সেই করুণ ছবি সে সময় ইন্টারনেটে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সাহসিকতার স্মারক হিসেবে সেই রিকশাটি পরবর্তীতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে’ সংরক্ষণের জন্য হস্তান্তর করা হয়। উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম সে সময় নূর মোহাম্মদের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন এবং তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন।
দীর্ঘ বিরতির পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে গিয়ে নতুন সংসদ বসতে যাচ্ছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে নূর মোহাম্মদের মতো একজন সাধারণ মানুষকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এটি জুলাই বিপ্লবের প্রতিটি কর্মীর ত্যাগের স্বীকৃতির একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে সাধারণ মানুষ মনে করছেন।