অস্ট্রেলিয়ার বুকে এক টুকরো বাংলাদেশ: ব্রিসবেনে ঈদ মেলায় প্রবাসীদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস
সুদূর অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন শহরে যেন এক চিলতে বাংলাদেশ জেগে উঠেছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিসবেন ইসলামিক কলেজ অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণ সেজেছিল উৎসবের রঙে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন ব্রিসবেন (বিএব)-এর উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী ঈদ মেলা ও ইফতার মাহফিল ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ছিল উৎসবমুখর আমেজ। এই আয়োজন প্রবাসের যান্ত্রিক জীবনে নিয়ে আসে এক অনাবিল আনন্দ।
প্রবাসের মাটিতে দেশীয় ঐতিহ্যের জমজমাট হাট
সকাল ১১টায় ঈদ বাজারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই মহাযজ্ঞ। মেলার স্টলগুলোতে প্রবাসী নারী উদ্যোক্তারা পসরা সাজিয়ে বসেন দেশীয় পোশাকের। শাড়ি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া আর থ্রি-পিসের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। দুপুরের পর থেকেই ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। হাজারো মাইল দূরে থেকেও দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এই মিলনমেলা মুহূর্তেই তৈরি করে এক খণ্ড বাংলাদেশের আবহ, যা আগতদের স্মৃতিতে ভাসিয়ে দেয় দেশের উৎসবের দিনগুলো।
বিকেল সাড়ে ৫টায় শুরু হয় ইফতার মাহফিলের মূল পর্ব। আয়োজকদের দেওয়া তথ্যমতে, ব্রিসবেনে বসবাসরত প্রায় ৮০০ প্রবাসী বাংলাদেশি এই বিশাল আয়োজনে অংশ নেন। কুইন্সল্যান্ড পার্লামেন্টের স্থানীয় এমপি, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সিটি কাউন্সিলের মেয়রসহ প্রায় ৩০ জন বিশিষ্ট অতিথি এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বাংলাদেশিদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। দুই দেশের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদ এবং সিডনির বন্ডাই বিচে মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
আমন্ত্রিত অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাংস্কৃতিক চেতনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁরা পবিত্র রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। বিদেশের মাটিতে দেশীয় সংস্কৃতির এমন চর্চা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে শেকড়ের সন্ধান পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বক্তারা মত প্রকাশ করেন।
পরিশেষে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। এভাবেই সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে সফলভাবে সমাপ্ত হয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই বর্ণাঢ্য আয়োজন, যা ব্রিসবেনকে কিছু সময়ের জন্য পরিণত করেছিল ‘লিটল বাংলাদেশে’।