সিলেটে সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত
সিলেট-সুলতানপুর-বালাগঞ্জ সড়কে দুটি সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার গভীর রাতে দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নের বটেরতল এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত চালকের নাম কয়েছ আহমদ (৩০)। দুর্ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা আরও কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। মধ্যরাতে ঘটা এই দুর্ঘটনা ওই এলাকায় শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েছ আহমদ যাত্রী নিয়ে সিলেট শহর থেকে গহরপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বটেরতল এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি দ্রুতগামী সিএনজি অটোরিকশার সঙ্গে তার গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশা দুটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই কয়েছ আহমদ গুরুতর আহত হন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত কয়েছ বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের শিওরখাল উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত কলিম উল্লাহর ছেলে।
পুলিশের উদ্ধার অভিযান ও তদন্ত
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মোগলাবাজার থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা দুর্ঘটনাকবলিত সিএনজি অটোরিকশা দুটি রাস্তা থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। নিহত কয়েছ আহমদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বেপরোয়া গতি বা রাতের অন্ধকারে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আহত যাত্রীদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে কয়েছ আহমদের পরিবারে এখন মাতম চলছে।
সিলেট-সুলতানপুর-বালাগঞ্জ সড়কটি সাম্প্রতিক সময়ে দুর্ঘটনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায়ই এই সড়কে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে, যার ফলে প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের ঘটনা বাড়ছে। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার এবং চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আবারও সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।