এলেঙ্গা-যমুনা সেতু মহাসড়কে নির্মাণকাজের ভোগান্তি: ঈদে দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কায় যাত্রী ও চালকরা
আসন্ন পবিত্র ঈদে উত্তরবঙ্গের ঘরমুখো মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার অংশে চলমান নির্মাণকাজের কারণে এবারও দীর্ঘ যানজটের তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে এই সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা পুলিশ প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। উন্নয়নের স্বার্থে চলমান এই কাজই এখন যাত্রীদের কাছে দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উন্নয়নের আড়ালে লুকিয়ে থাকা দুর্ভোগ
মহাসড়কের জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের কাজ শেষ হওয়ায় ওই অংশে স্বস্তি ফিরলেও, এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই অংশে বেশ কয়েকটি আন্ডারপাস ও এলেঙ্গায় একটি ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ এখনো চলমান। সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই কাজ শুরু হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৫০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। ফলে প্রকল্পের মেয়াদ আরও বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
যাত্রী ও চালকদের চোখে পুরনো আতঙ্ক
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণসামগ্রী ও বালুর স্তূপ পড়ে আছে। শ্যামলী পরিবহনের চালক শওকত হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই প্রশস্তকরণের কাজের জন্য মাঝেমধ্যেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রতি বছর ঈদে বাড়ি ফেরা যাত্রীরা তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। এলেঙ্গার এই উন্নয়নকাজের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হয়, যা এবারও ঘটার শঙ্কা রয়েছে।
প্রশাসন ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আশার বাণী
যানজটের এই শঙ্কা কাটাতে আশার আলো দেখাচ্ছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও পুলিশ প্রশাসন। আব্দুল মোনেম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আওয়াল আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে উত্তরবঙ্গগামী সার্ভিস লেনটি খুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি যানবাহন যাতে চার লেনের সুবিধা পায়, সেজন্য বিকল্প সড়কের ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। তারা আশা করছেন, এবার বড় কোনো জটলা হবে না।
সহস্রাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার জানিয়েছেন, ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে মহাসড়কে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন কোনো গাড়ি নামতে দেওয়া হবে না এবং অপরাধ দমনে টহল জোরদার করা হবে। এছাড়া যাত্রীদের সুবিধার্থে ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল সীমিত রাখা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।