রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতি: তদন্তের স্বার্থে চিত্রকলা বিভাগের সভাপতিকে অব্যাহতি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে বিভাগটির সভাপতি অধ্যাপক বনি আদমকে তার পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ স্বাক্ষরিত একটি বিশেষ অফিস আদেশের মাধ্যমে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
অব্যাহতির নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর সমীকরণ
এই অব্যাহতির ঘটনাটি নিছক প্রশাসনিক কোনো রদবদল নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সম্মিলিত অনাস্থা। জানা গেছে, বিভাগের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সরাসরি অনাস্থা প্রকাশ এবং শিক্ষার্থীদের জোরালো অভিযোগের মুখে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। উদ্ভূত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত চলাকালীন সময়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে অধ্যাপক বনি আদমকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চারুকলা অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ আলীকে বিভাগের অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতির দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
নিয়োগ কেলেঙ্কারি ও আন্দোলনের আগুন
এই সংকটের সূত্রপাত মূলত শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়ম এবং নিম্নমানের প্রশ্নপত্র তৈরির অভিযোগ থেকে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, বিভাগের মৌলিক আদর্শের পরিপন্থী মূল্যায়ন কাঠামো অনুসরণ করে চরম অনিয়ম করা হয়েছে। ইতিপূর্বে তারা অধ্যাপক বনি আদমের কঠোর শাস্তির দাবিতে পাঁচ দফা দাবি নিয়ে রাজপথে আন্দোলনে নামেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত অধ্যাপক বনি আদম তদন্তের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তার দাবি, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে এবং তিনি একে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।