মার্কিন চুক্তিতে বছরে ১৩০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা: সিপিডির উদ্বেগ
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে সরকারের রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে বলে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। চুক্তি অনুযায়ী বিপুল সংখ্যক মার্কিন পণ্যে শুল্ক হ্রাস বা মওকুফ করার কারণে এই রাজস্ব হারানোর চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের চিন্তার কারণ।
বাণিজ্যের আড়ালে রাজস্ব ফাঁদ: চুক্তির নেপথ্যের তথ্য
‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সুপারিশ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক ‘রেসিপ্রোকাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট’-এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা প্রায় সাড়ে চার হাজার পণ্যে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে হবে। এছাড়া আগামী কয়েক বছরে আরও প্রায় ২ হাজার ২১০ ধরনের পণ্যে শুল্ক ছাড়ের শর্ত রয়েছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই খাত থেকে বাংলাদেশ প্রায় ১ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা শুল্ক আদায় করেছে। শুল্কমুক্ত সুবিধা কার্যকর হলে ভবিষ্যতে ন্যূনতম এই পরিমাণ অর্থ রাজস্বখাতে ঘাটতি দেখা দেবে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফাভাবে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দেওয়ায় ডব্লিউটিওভুক্ত অন্যান্য দেশগুলোও একই সুবিধা দাবি করতে পারে।
রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব এবং সংস্কারের তাগিদ
সিপিডি আরও জানায়, রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের বিষয়টি বর্তমানে একটি হিমালয়সম চ্যালেঞ্জ। চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১২.৯ শতাংশ, অথচ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪.৫ শতাংশ। ইতোমধ্যে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা অর্থনীতিতে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে।
নতুন করে করের হার বাড়ানোর আগে বিদ্যমান রাজস্ব ব্যবস্থার ফাঁকফোকর বন্ধ করা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সিপিডি পরামর্শ দেয়, কর ফাঁকি রোধ, প্রশাসনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কর ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন নিশ্চিত করা গেলে রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এছাড়া জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করতে শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।