মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় স্তব্ধ ঢাকা বিমানবন্দর: বাতিল হলো প্রায় ৪০০ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র নিরাপত্তা সংকটের জেরে একাধিক দেশের আকাশপথ বন্ধ থাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিপুল সংখ্যক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই আকস্মিক বিপর্যয়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে এবং দেশের সামগ্রিক বিমান চলাচলের ওপর এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বিমানবন্দর থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত ধাপে ধাপে সর্বমোট ৩৯১টি ফ্লাইট বাতিলের তালিকা তৈরি হয়েছে। এই বাতিলের সংখ্যা স্পষ্টত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা কীভাবে সরাসরি বাংলাদেশের আকাশপথের স্বাভাবিক গতিকে প্রভাবিত করছে। ফ্লাইট বাতিলের এই ধারাবাহিকতা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসার হতাশাজনক চিত্রই তুলে ধরছে।
যাত্রী সেবার ওপর আকাশপথের বিধিনিষেধের চরম আঘাত
বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছিল মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যগামী। শুধুমাত্র ১১ মার্চের সর্বশেষ তালিকায় কুয়েত এয়ারওয়েজ, এয়ার অ্যারাবিয়া, গালফ এয়ার, কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, জাজিরা এয়ারওয়েজ এবং ফ্লাইদুবাইয়ের একাধিক ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত ছিল। এটি প্রমাণ করে যে উপসাগরীয় অঞ্চলের ট্রানজিট এবং গন্তব্যস্থলগুলোর ওপর বাংলাদেশের বিমান যোগাযোগ কতটা নির্ভরশীল।
সীমিত আকারে উড়ছে কয়েকটি বিমান: গন্তব্যে অনিশ্চয়তার জাল
বড় সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হওয়া সত্ত্বেও একই সময়কালে মধ্যপ্রাচ্যের নির্দিষ্ট কিছু রুটে সীমিত পরিসরে বিমান চলাচল সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে মাস্কাট, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী কিছু ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি রাখা হয়েছিল। এটি নির্দেশ করে যে, শত বাধা বিপত্তির মধ্যেও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ অত্যাবশ্যকীয় যোগাযোগ সচল রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সমস্ত বাতিল এবং সীমিত পরিচালনার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির ওপর নির্ভর করে নেওয়া হচ্ছে। যখনই কোনো দেশের আকাশপথে অনিশ্চয়তা বাড়ছে, তখনই দ্রুততার সঙ্গে বাতিল বা স্থগিতাদেশ দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে ঢাকার আকাশপথের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরে আসা।