বাম্পার ফলন সত্ত্বেও বিপাকে দিনাজপুরের আলু চাষিরা: ন্যায্য মূল্যের অভাবে লোকসানের আশঙ্কা
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় এবার আলুর বাম্পার ফলন হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় চাষিরা চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় প্রতিটি এলাকায় আলুর ফলন আশাব্যঞ্জক হলেও বাজারদরের নিম্নমুখী প্রবণতা কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি করেছে। চাষিরা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে আলুর আবাদ ব্যাপকভাবে কমে যাবে।
স্বর্ণ ফলন সত্ত্বেও বিপদের ঘনঘটা: প্রতি বিঘাতে লোকসান
কার্ডিনাল, ডায়মন্ড, রোমানা, এস্টারিজ, ক্যারেজ, ফুপরি, সাদা পাকরী ও লাল পাকরীর মতো জনপ্রিয় জাতগুলোর চাষ করে কৃষকরা ভালো ফলন পেয়েছেন। তবে বাজারে আলুর দাম কম থাকায় প্রতি বিঘায় প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। হাটিয়ারী গ্রামের আলু চাষি হরি মোহন জানান, তিনি এবার তিন বিঘা জমিতে কার্ডিনাল জাতের আলু চাষ করে বিঘাপ্রতি প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ মণ ফলন পেয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ আলু মাত্র ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা দিয়ে উৎপাদন খরচও তোলা সম্ভব হচ্ছে না।
চক্রবৃদ্ধি ক্ষতির মুখে কৃষক
একই গ্রামের মহন্ত জানান, গত বছর লোকসানের মুখে পড়ার পরেও তিনি এবার পাঁচ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে আবারও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আলু তোলার পর ওই জমিতে বোরো ধান চাষ করলে ফলন তুলনামূলক কম হয়, যা কৃষকদের দ্বিগুণ ক্ষতির মুখে ফেলছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে তারা দ্রুত আলুর ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নজরে রাখা হলেও তাৎক্ষণিক সমাধানের পথ মেলেনি।
লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েও কৃষকের মুখে কষ্টের ছাপ
কাহারোল উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩ হাজার ৩৩৩ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে ৩ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে চাষ এবং ফলন ভালো হওয়া সত্ত্বেও বাজারদরের এই বিপর্যয় কৃষকদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে।
কাহারোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুর রহমান জানিয়েছেন, আলু রোপণ থেকে শুরু করে ফলন আসা পর্যন্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে এসেছেন এবং ফলনও সন্তোষজনক হয়েছে। তবে বর্তমানে বাজারে আলুর সরবরাহ অতিরিক্ত হওয়ায় দাম কিছুটা কম। তিনি চাষিদের আশ্বস্ত করে বলেন, যদি কৃষকরা আলু হিমাগারে অথবা নিজ বাড়িতে মাচা পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করতে পারেন, তবে ভবিষ্যতে তারা অপেক্ষাকৃত ভালো দাম পেতে সক্ষম হবেন।