সর্বশেষ
Loading breaking news...

আকাশে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র, বন্ধু ইরানকে ‘চরম পরিণতির’ হুঁশিয়ারি দিলেন এরদোয়ান

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

তুরস্কের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশ করায় দুই দেশের সম্পর্কে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই ঘটনায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে ফোন করে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে তুরস্ক বসে থাকবে না, প্রয়োজনে ‘বড় পদক্ষেপ’ নিতেও দ্বিধা করবে না আঙ্কারা।

আগুনের গোলা রুখে দিল ন্যাটোর ঢাল

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি দুই দফায় তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান শুরুর পর ৪ মার্চ প্রথমবার এবং ৯ মার্চ দ্বিতীয়বার এই ঘটনা ঘটে। তবে দু’বারই তুরস্কের প্রতিরক্ষা বাহিনী ন্যাটোর অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করে মাঝ আকাশেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।

সোমবার দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করার পরই ইরানের প্রেসিডেন্টকে সরাসরি ফোন করেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, “ইরানের এই বেপরোয়া ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কারণে যুদ্ধে কোনো পক্ষ না নিয়েও তুরস্ক ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, বন্ধু ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে কারও স্বার্থ হাসিল হবে না এবং তুরস্ক কখনোই এই ধরনের কার্যকলাপ অনুমোদন করবে না।

একই সাথে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং শতাধিক স্কুলছাত্রী নিহতের ঘটনায় তিনি গভীর শোক ও সমবেদনাও প্রকাশ করেন। তুর্কি প্রেসিডেন্টের এমন কঠোর বার্তার জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশকারী ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরান থেকে ছোড়া হয়নি। তবে এরদোয়ানের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দেখা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

এই ঘটনায় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দুই আঞ্চলিক শক্তির এই উত্তেজনা বিশ্ব রাজনীতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তুরস্ক তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ন্যাটোর সহযোগিতার ওপর পুনরায় আস্থা প্রকাশ করেছে।

আরও পড়ুন