ক্যালিফোর্নিয়ায় ইরানি ড্রোন হামলার ভয়ানক পরিকল্পনা! এফবিআইয়ের সতর্কতায় তোলপাড় আমেরিকা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ড্রোন হামলা চালানোর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করেছিল ইরান—এমন বিস্ফোরক দাবি করেছে আমেরিকার কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো এক সতর্কবার্তায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে, যা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সতর্কতা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রতিশোধের আবহে তৈরি হয়েছিল গোপন নকশা
এবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে এফবিআই এই সতর্কতা জারি করে। চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয় যে, ইরান এমন এক হামলার ছক কষেছিল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে অবস্থানরত অজ্ঞাত জাহাজ থেকে আচমকা ড্রোন ব্যবহার করে আক্রমণ করা হবে। এই পরিকল্পনার সম্ভাব্য সময়সীমা হিসেবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুর দিক উল্লেখ করা হয়েছিল।
ধারণা করা হচ্ছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র কখনও ইরানের অভ্যন্তরে সামরিক অভিযান চালায়, তবে তার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান এই পাল্টা আঘাত হানার নীলনকশা তৈরি করেছিল। অজ্ঞাত জাহাজ থেকে ড্রোন হামলার কৌশলটি মূলত মার্কিন কোস্ট গার্ড এবং রাডার ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি আধুনিক যুদ্ধের এক নতুন এবং ভয়াবহ রূপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লক্ষ্য ও পদ্ধতি নিয়ে ধোঁয়াশা, তবুও বাড়ছে উদ্বেগ
যদিও এফবিআইয়ের বার্তায় হামলার সম্ভাব্য সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে, তবে আক্রমণের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু বা হামলাকারীদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় সম্পর্কে কোনো অতিরিক্ত তথ্য সরবরাহ করা হয়নি। এই অসম্পূর্ণ তথ্য সত্ত্বেও, ক্যালিফোর্নিয়ার নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষত, এই সতর্কতা সেই সময়ে প্রকাশ্যে এল, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই গুরুতর অভিযোগ প্রসঙ্গে লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত এফবিআই কার্যালয় এবং হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ফলে, ইরানের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার সত্যতা এবং এর প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে জল্পনা বাড়ছে। নাগরিকদের অস্বাভাবিক কোনো কিছু দেখলে দ্রুত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।