খেলোয়াড় মুখ ঢাকলেই লাল কার্ড! বর্ণবাদ রুখতে ফিফার নজিরবিহীন প্রস্তাব
ফুটবল মাঠে বর্ণবৈষম্য নির্মূলে এবার কঠোরতম পদক্ষেপ নিতে চলেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সম্প্রতি এমন এক যুগান্তকারী প্রস্তাব দিয়েছেন, যা কার্যকর হলে খেলার নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় যদি উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ ঢেকে রাখেন, তবে সেটিকে সন্দেহের চোখে দেখা হবে এবং সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হতে পারে।
বর্ণবাদী মন্তব্যের খোঁদলে নতুন বিতর্ক
সাম্প্রতিক সময়ে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের অভিযোগ ঘিরে বর্ণবৈষম্য নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। চ্যাম্পিয়নস লিগের প্লে-অফের প্রথম লেগে বেনফিকার ফুটবলার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি তাঁর প্রতি বর্ণবাদী মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন ভিনিসিয়ুস। এর আগেও একাধিকবার বর্ণবাদের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ব্রাজিলীয় তারকা। তবে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয় যে, প্রেস্তিয়ান্নি যখন ভিনিসিয়ুসের উদ্দেশে মন্তব্য করছিলেন, তখন তিনি মুখ ঢেকে রেখেছিলেন। উয়েফা ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রেস্তিয়ান্নিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রমাণের অপেক্ষা নয়, প্রতিরোধই মূল লক্ষ্য
স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো বলেন, “যদি কোনো খেলোয়াড় মুখ ঢেকে কিছু বলেন এবং তার মধ্যে বর্ণবাদী সুর থাকে, তবে তাঁকে অবশ্যই মাঠ থেকে বহিষ্কার করতে হবে। আমাদের ধরে নিতে হবে যে তিনি এমন কিছু বলেছেন যা বলা উচিত হয়নি। কারণ স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মুখ ঢাকার কোনো প্রয়োজন পড়ে না।” ইনফান্তিনো স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কেবল অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করাই ফিফার লক্ষ্য। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগেই মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নতুন নিয়ম চালুর পরিকল্পনা করছে ফিফা।
আইএফএবি বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
এই কঠোর পদক্ষেপের সম্ভাব্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে। আইএফএবি সদস্য এবং ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী মার্ক বুলিংহাম জানিয়েছেন, মাঠের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে কথা বলার প্রয়োজনীয়তা কার্যত নেই বললেই চলে। তাই এই প্রবণতা রোধে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। আগামী মাসে ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ফিফা কংগ্রেস, যেখানে এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত অগ্রগতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে তা ফুটবলের স্বচ্ছতা ও খেলোয়াড়সুলভ আচরণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মুখের আড়ালে কটু কথা বলার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ফিরিয়ে আনাই এখন ফিফার প্রধান এজেন্ডা হয়ে দাঁড়িয়েছে।