দেশের সামাজিক সুরক্ষা বলয়কে এক নতুন দিগন্তে পৌঁছে দিতে সরকার ঐতিহাসিক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘোষণা দিয়েছেন যে, এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সাথে বাস্তবায়ন করা হবে। কোনো নাগরিক যাতে তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে এই সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা হবে।
অরাজনৈতিক বাস্তবায়ন
অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাল্টিপারপাস হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি। বিরোধী দল অধ্যুষিত এলাকার বাসিন্দারাও এই সুবিধার আওতায় আসবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী সরাসরি রাজনৈতিক বৈষম্যের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, এটি হবে শতভাগ নিরপেক্ষ একটি প্রকল্প।
নারী ক্ষমতায়ন
এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো নারীপ্রধান পরিবারগুলোর ক্ষমতায়ন। পরিবারের নারী প্রধানদের মাধ্যমে সরাসরি অর্থনৈতিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে তৃণমূলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণের চিন্তাধারা থেকেই এই মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন। মন্ত্রী জানান, প্রথম ধাপে অতিদরিদ্র পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং পরবর্তী ধাপে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তালিকায় কোনো প্রকার অনিয়ম দেখা দিলে তা তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রকল্পটি সর্বোচ্চ সততা ও জবাবদিহিতার মানদণ্ডে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হবে এবং ধীরে ধীরে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। উপকারভোগী নির্বাচনে কোনো প্রকার রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না। এই উদ্যোগ দেশের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে একটি সত্যিকারের কল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।