ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ
জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে স্পিকার পদে নির্বাচিত হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। তাঁর এই নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। অভিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদের হাত ধরে সংসদীয় কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতীয় সংসদের নেপথ্যের গতিপ্রকৃতি
অধিবেশনের শুরু থেকেই স্পিকার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ছিল। অবশেষে দীর্ঘ আলোচনার পর, দেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদদের সম্মতিতে ত্রয়োদশ সংসদের প্রধান হিসেবে মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাবিত হয়। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অবিচল আনুগত্যই তাঁকে এই মর্যাদাপূর্ণ আসনে অধিষ্ঠিত হতে সাহায্য করেছে।
সংসদ পরিচালনায় তাঁর অভিজ্ঞতা সংসদ সদস্যদের মধ্যে এক ধরনের আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছে। স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সংসদীয় রীতি ও নীতি মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের অংশগ্রহণে সংসদকে প্রাণবন্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর নেতৃত্ব সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে।
বীর বিক্রম উপাধির আড়ালে লুকিয়ে থাকা দৃঢ়তা
মুক্তিযুদ্ধকালীন অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রাপ্ত 'বীর বিক্রম' উপাধি তাঁর ব্যক্তিত্বে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা থেকে সংসদের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে তাঁর এই উত্তরণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সংসদ সদস্যরা বিশ্বাস করেন, তাঁর কঠোর শৃঙ্খলাবোধ এবং নৈতিক অবস্থান জাতীয় সংসদের মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে এক ধরনের স্থিতিশীলতা আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মেজর হাফিজের মতো একজন ব্যক্তির স্পিকার হওয়া সংসদীয় ইতিহাসের এক মাইলফলক। তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের জন্য তাঁর রাজনৈতিক জীবন হতে পারে এক অনন্য অনুপ্রেরণা। দেশবাসী এখন তাঁর অধীনে একটি কার্যকর ও জনবান্ধব সংসদের প্রতীক্ষায় রয়েছে।