সর্বশেষ
Loading breaking news...

শিক্ষা থেকে সমাজ: পচনের চরম শিখরে মানবিকতা, মুক্তি মিলবে কি অনাচারের?

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

দেশের পটপরিবর্তন ঘটে, বিপ্লব আসে, কিন্তু দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলা যাচ্ছে না। দুর্নীতির ভয়াবহ সব তথ্য যখন উন্মোচিত হয়, তখন বোঝা যায় ‘সর্ষের ভিতর ভূত’ প্রবাদটি কতটা বাস্তব। এমনকি দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও যখন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, তখন সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনো সংশয় থাকে না। অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন করলেও শিক্ষার মতো মৌলিক খাতটি শুরুতে উপেক্ষিত হওয়ায় সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষাব্যবস্থার ‘বেলুন’ চুরমার

বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তড়িঘড়ি শিক্ষা কমিশন গঠন করার একটি রেওয়াজ দেখা যায়, যার ফলে মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবারের চিত্র আরও ভয়াবহ। মেডিকেল শিক্ষার আসন কমানোর সিদ্ধান্ত যেমন উদ্বেগের, তেমনি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি দেশের প্রকৃত আর্থসামাজিক চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে। বাল্যবিবাহ আর অভিভাবকদের চরম অর্থনৈতিক অক্ষমতাই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। গত ২১ বছরের মধ্যে এবার পাসের হার সর্বনিম্ন ৫৯ শতাংশে নেমে এসেছে। বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পাসের হারকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে যে সাফল্যের বেলুন ওড়ানো হয়েছিল, তা আজ চুপসে গেছে।

শিক্ষার মান মূলত নির্ভর করে শিক্ষকের মান ও মর্যাদার ওপর। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষকদের সামাজিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। রাজপথে বেতন-ভাতার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকের ওপর পুলিশের আক্রমণ এবং একজন অসহায় শিক্ষকের ‘স্যার আমাকে মারবেন না’ বলে করা আর্তনাদ আসলে গোটা শিক্ষাব্যবস্থারই আর্তনাদ। যখন একজন শিক্ষককে রাজপথে প্রহৃত হতে হয় কিংবা শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষককে আদর্শ হিসেবে দেখার বদলে নিছক কোচিং সেন্টারের ব্যবসায়ী হিসেবে গণ্য করে, তখন নৈতিকতার স্তম্ভ নড়বড়ে হয়ে যায়। আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধেও ছাত্র নিগ্রহের মতো যৌন অনাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

জীবনের চেয়ে সস্তা মৃত্যু

বর্তমানে মানুষের প্রাণের মূল্য যেন বাজারের পণ্যের চেয়েও সস্তা হয়ে গেছে। তুচ্ছ কারণে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ কিংবা সামান্য ৩০ হাজার টাকায় ভাড়াটে খুনি দিয়ে প্রতিপক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা আমাদের শিহরিত করে। শৈশবের বন্ধুত্ব আজ অপরাধ জগতের কাছে জিম্মি। মাত্র দুই লাখ টাকার চুক্তিতে খুনিরা পুরোনো বন্ধুর প্রাণ কেড়ে নিতে দ্বিধা করছে না। পারিবারিক কলহে স্বামী-স্ত্রীর আত্মহত্যা কিংবা মা কর্তৃক নিজ সন্তানকে হত্যার মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, আমাদের মানবিক পরিবেশ কতটা বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। মূল্যস্ফীতির এই বাজারে সবকিছুর দাম বাড়লেও মানুষের প্রাণের দাম কমে গেছে আশঙ্কাজনকভাবে। এই চরম অনাচার আর অবক্ষয়ের অবসান ঘটিয়ে একটি সুস্থ সমাজ গঠনই এখন নতুন সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের একমাত্র প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন