সিলেটে পাম্পে হামলার জেরে স্তব্ধ জ্বালানি সরবরাহ, প্রতীকী ধর্মঘট শুরু
সিলেট বিভাগে মঙ্গলবার সকাল থেকে আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে সকল পেট্রোল পাম্প। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এই প্রতীকী ধর্মঘট চলায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। মূলত পাম্পে হামলা, হুমকি এবং কর্মচারীদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে এই কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছে।
র রক্তাক্ত কাউন্টার: এক অনুরোধেই যে তাণ্ডব চালাল উচ্ছৃঙ্খল যুবকেরা
এই ধর্মঘটের সূত্রপাত সোমবার সন্ধ্যার একটি ঘটনা থেকে। সিলেট নগরীর চৌকিদেখিস্থ উত্তরা পেট্রোলিয়ামে লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহের অনুরোধ করায় পাম্পের বিক্রয়কর্মী মিঠু গোয়ালা নামের এক তরুণের ওপর চড়াও হয় কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল যুবক। তাকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। এই ঘটনাই মালিক ও শ্রমিকদের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালে।
সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সোমবার শ্রীমঙ্গলের একটি রিফুয়েলিং স্টেশনে এবং রবিবার রাতে সিলেট শহরের আরেকটি পাম্পেও কর্মচারীদের ওপর একই ধরনের হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। ক্রমাগত নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন কর্মীরা। এই পরিস্থিতিতে পাম্প মালিক সমিতি শ্রমিক-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
পাম্প মালিক সমিতির ৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, বিপিসি আরোপিত অযৌক্তিক দৈনিক কোটা পদ্ধতি প্রত্যাহার এবং সিলেট অঞ্চলে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক করতে অতিরিক্ত জোগান নিশ্চিত করা। তারা সতর্ক করেছেন যে, দাবি মানা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
প্রশাসন থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হলেও মালিকরা দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় আছেন। সাধারণ মানুষ আশা করছেন, দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান হবে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। সাময়িক ধর্মঘটের কারণে শহরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যানবাহনের লম্বা লাইন দেখা গেছে।