সর্বশেষ
Loading breaking news...

ইরান-সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে বড়সড় ধাক্কা! রেকর্ড মজুত ভাণ্ডার খালি করার ঐতিহাসিক প্রস্তাব আইইএ-র

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের বাজারে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নিতে চলেছে। সংস্থাটি তাদের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ কৌশলগত তেলের মজুত উন্মুক্ত করে বাজারে সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে, যা তেলের মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টানতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যুদ্ধের ছায়া: বিশ্ব অর্থনীতির ওপর তেলের ভয়ঙ্কর চাপ

ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাজারকে রীতিমতো কাঁপিয়ে তুলেছে। এর সরাসরি প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বাজারের স্থিতিশীলতা ফেরাতে জরুরি ভিত্তিতে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে এই প্রস্তাবের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।

১৮২ মিলিয়ন ব্যারেলের চেয়েও বড় পদক্ষেপের প্রস্তুতি

আন্তর্জাতিক মহল বিশেষভাবে নজরে রেখেছে যে প্রস্তাবিত এই মজুত ছাড়ের পরিমাণ পূর্বের যেকোনো হস্তক্ষেপকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে রাশিয়া কর্তৃক ইউক্রেন আক্রমণের পর সৃষ্ট জ্বালানি সংকটে আইইএ সদস্য রাষ্ট্রগুলো সম্মিলিতভাবে বাজারে ১৮২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছেড়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত ছাড়ের পরিমাণ সেই ঐতিহাসিক মাত্রা অতিক্রম করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বুধবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, নজর আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের

জানা গেছে, মঙ্গলবার আইইএভুক্ত ৩২টি সদস্য দেশের জ্বালানি কর্মকর্তাদের এক জরুরি বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। সংস্থাটির এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ওপর বুধবার চূড়ান্ত সিলমোহর পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারী এবং ভোক্তারা অধীর আগ্রহে এই সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন, যা বৈশ্বিক জ্বালানি ভূরাজনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

আইইএর এই সাহসী পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে ভূরাজনৈতিক সংকটের মুহূর্তে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর হতে পারে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেলের মজুত ছাড়ার এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে স্বস্তি দিলেও, দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক সমাধান এবং উত্তেজনা প্রশমনের কোনো বিকল্প নেই।

আরও পড়ুন