হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা: সংকট মোকাবিলায় ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ছে আইইএ
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বিশ্ববাজারে তেলের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে এক বিশাল পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে হরমুজ প্রণালী নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সংস্থাটির ৩২টি সদস্য দেশ তাদের জরুরি মজুত থেকে মোট ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জরুরি জ্বালানি মজুত ব্যবহার
প্যারিসে এক জরুরি অধিবেশনে আইইএ-র নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল বলেন, এই পদক্ষেপ তাৎক্ষণিক সংকট কাটাতে সাহায্য করবে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহকারী হরমুজ প্রণালী সচল না হওয়া পর্যন্ত বাজারে স্থায়ী স্থিতিশীলতা আসা কঠিন।
জাপান, জার্মানি এবং অস্ট্রিয়ার মতো দেশগুলো ইতোমধ্যেই তাদের জাতীয় ভাণ্ডার থেকে তেল ছাড়তে শুরু করেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন যে, তাদের আমদানিকৃত তেলের সিংহভাগই এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল, তাই সোমবার থেকে তারা বড় পরিসরে মজুত তেল সরবরাহ শুরু করবে যাতে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রভাব কমানো যায়।
মানবিক বিপর্যয় ও হুমকি
অন্যদিকে, ইরান তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, এই সংঘাতের মধ্যে তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে এক ফোঁটা তেলও বের হতে দেবে না। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের মিত্রদের সাথে যুক্ত যে কোনো জাহাজকে তারা বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে, যা তেলের দাম ২০০ ডলারে নিয়ে যেতে পারে।
এই অচলাবস্থা কেবল জ্বালানি সংকট নয়, বিশ্বব্যাপী মানবিক বিপর্যয়ও ডেকে আনছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে যে, এই অবরোধের ফলে আফ্রিকা ও ইউরোপের অনেক অঞ্চলে জরুরি খাবার ও ওষুধ পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। সংস্থাটি অবিলম্বে মানবিক কারণে এই জলপথ উন্মুক্ত করার জন্য ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি জোরালো আবেদন জানিয়েছে।