ইতিহাসের সব রেকর্ড ভাঙল স্বর্ণের দাম: ভরিপ্রতি ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ছাড়াল
দেশের বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বেড়েছে স্বর্ণের দাম। নতুন ঘোষণায় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার টাকারও বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকায়। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আজ সকাল ১০টা থেকেই নতুন এই দাম কার্যকর করা হয়েছে। এটি দেশের ইতিহাসে স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম।
স্বর্ণের বাজারে আকস্মিক অস্থিরতার কারণ
স্বর্ণের এই লাগামহীন দাম বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হিসেবে স্থানীয় বাজারে 'তেজাবি স্বর্ণ' বা বিশুদ্ধ সোনার দাম বৃদ্ধিকে উল্লেখ করেছে বাজুস। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহের সংকটের কারণে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বাজুস জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতির নিবিড় পর্যালোচনা করেই নতুন এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দামের বিস্তারিত তালিকা
বাজুসের নতুন তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৮ হাজার ১২৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১ হাজার ২৬৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৬১৭ টাকা। ক্রেতাদের প্রতিটি গয়না কেনার ক্ষেত্রে নতুন এই তালিকা অনুসরণ করতে হবে।
পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রুপার দাম
স্বর্ণের উত্তাপে কেবল সোনা নয়, রুপার দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। এক ধাক্কায় ভরিতে ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে এখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬ হাজার ৪১৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুপার এই দাম বৃদ্ধি অলংকার শিল্পের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া
স্বর্ণের এই আকাশছোঁয়া দামে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে চরম অস্বস্তি বিরাজ করছে। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুমে স্বর্ণ কেনা সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। জুয়েলারি ব্যবসায়ীরাও আশঙ্কা করছেন যে, দামের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে বাজারে বিক্রয় কমে যেতে পারে। অনেক ব্যবসায়ী মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে জুয়েলারি শিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়বে।