ছুটির দিনেও চালু তেল ডিপো: জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারের জরুরি নির্দেশ
চলমান জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এই জরুরি পরিস্থিতিতে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের শিথিলতা আনতে নারাজ প্রশাসন। সেই ধারাবাহিকতায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছে, যার ফলে এখন থেকে সাপ্তাহিক সরকারি ছুটির দিনগুলোতেও জ্বালানি তেলের প্রধান ডিপোগুলো খোলা রাখতে হবে।
জরুরি মুহূর্তে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণ
বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, শুক্রবার ও শনিবার বিপিসি’র অধীনস্থ বিপণন কোম্পানিগুলোর সকল প্রধান স্থাপনা ও ডিপোসমূহ খোলা রাখা বাধ্যতামূলক। এর মূল লক্ষ্য হলো জনসাধারণের চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কোনো অবস্থাতেই যাতে বিতরণ প্রক্রিয়ায় ছেদ না পড়ে তা নিশ্চিত করা।
সরকারের এই নির্দেশনা থেকে স্পষ্ট যে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশ্ববাজারের অস্থিরতার মাঝে আমদানি সূচি অনুযায়ী তেল দেশে আনা হচ্ছে এবং তা দ্রুত ডিলার ও খুচরা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সাপ্তাহিক ছুটির দিনকেও কাজের দিনের মর্যাদা দেওয়া হলো। এর ফলে গ্রাহক পর্যায়ে জ্বালানির প্রাপ্যতা সহজ হবে।
কৃত্রিম সংকট রোধ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই পদক্ষেপ বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির যেকোনো অপচেষ্টাকে রুখে দিতে সহায়ক হবে। ছুটির দিনেও ডিপো চালু রাখার সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে, তেলের পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এটি বাজারের ওপর জনগণের আস্থা ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখবে এবং ব্যবসায়ীদের মজুতদারি করার সুযোগ কমিয়ে দেবে।
দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই এই জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বিপিসি বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে যে, জ্বালানি আমদানির চলমান সূচি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সরকারের এই সময়োচিত হস্তক্ষেপের ফলে জ্বালানি সংকট দ্রুত প্রশমিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।