ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের মুখে উপসাগরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংকটে: ফুরিয়ে আসছে আকাশ রক্ষার রসদ
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-কেন্দ্রিক চলমান উত্তেজনা উপসাগরীয় দেশগুলোকে এক মারাত্মক সামরিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আকাশপথে ধেয়ে আসা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ভয়াবহভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে দেশগুলো এখন কোন এলাকা সুরক্ষিত রাখবে আর কোনটি অরক্ষিত রাখবে, তা নিয়ে কঠিন বাছ-বিচারের সম্মুখীন হচ্ছে।
মার্কিন অস্ত্র সরবরাহে অচলাবস্থা ও মিত্রদের হতাশা
অভিযোগ উঠেছে যে, ওয়াশিংটনের ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে বৈশ্বিক অস্ত্র সংকটের অজুহাত দেখিয়ে তাদের উপসাগরীয় মিত্রদের পুনঃসরবরাহের আবেদনকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। সংঘাত শুরুর পর থেকেই সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো রাষ্ট্রগুলো তাদের প্রতিরক্ষা ভাণ্ডার পূর্ণ করার জন্য মরিয়া আবেদন জানালেও তাতে ফল মিলছে না। গত কয়েক মাসে উৎপাদনের তুলনায় সামরিক অভিযানে বহুগুণ বেশি অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে।
সম্প্রতি দুবাইয়ের আকাশসীমায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দৃশ্য এই যুদ্ধের তীব্রতা স্পষ্ট করে দেয়। সরকারি তথ্যমতে, যুদ্ধের শুরু থেকে আমিরাত এককভাবে ২৪১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৩৮৫টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, একটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সাধারণত অন্তত দুটি ইন্টারসেপ্টর প্রয়োজন হয়, যা দেশগুলোর অস্ত্রাগারকে দ্রুত শূন্যের কোঠায় নিয়ে যাচ্ছে। ‘প্যাট্রিয়ট’ ইন্টারসেপ্টর উৎপাদন বছরে মাত্র ৬০০টির মতো, যা চাহিদার তুলনায় নগণ্য।
ভূ-রাজনৈতিক চাপ ও প্রতিরক্ষা বেষ্টনীর পরিবর্তন
এই অস্ত্র সংকটের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে সুদূর পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত। চীনের সাথে ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্য মোতায়েন করা মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো এখন বাধ্য হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে আসতে হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ুং সিউলের আপত্তি উপেক্ষা করে সেখান থেকে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এটি বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক লজিস্টিকসের ওপর চরম চাপের বহিঃপ্রকাশ।
এমনকি তুরস্কের গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো রাডার ঘাঁটিতেও উত্তেজনা বিরাজ করছে, যেখানে জার্মানি থেকে আনা উন্নত প্যাট্রিয়ট সিস্টেম মোতায়েন করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের মার্কিন নিরাপত্তা নির্ভরতা এখন উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য কতটা বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই সংকট পুরো মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরক্ষা কৌশলকে নতুন করে ভাবাতে বাধ্য করছে।